টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হলেও কয়েকটি দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা এখনো দেশে ফিরতে না পারায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে আইসিসি। শেষে পর্যন্ত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত সময়ে দেশে ফিরলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই বিলম্ব তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির ফল।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা বুঝতে পারছি যে আইসিসি পুরুষদের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শেষ করার পর খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং তাদের পরিবার দ্রুত দেশে ফিরতে চান। তারা এখনো ফিরতে পারেননি। এটি আমাদের জন্যও সত্যিকারের হতাশার বিষয়।”
সংস্থাটি জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, ফ্লাইট রুট পরিবর্তন এবং হঠাৎ করে বাণিজ্যিক ও চার্টার ফ্লাইট বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ। আইসিসি আরও বলেছে, “এই পরিস্থিতিগুলো সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভ্রমণব্যবস্থা অনেক বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।”
আইসিসি জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে তারা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এয়ারলাইনস, চার্টার অপারেটর, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি অংশীদারদের সঙ্গে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি, যাতে যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়।”
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরা মঙ্গলবার রাত থেকেই দেশে ফেরার যাত্রা শুরু করবেন এবং আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সবাই রওনা হওয়ার কথা।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের নয়জন সদস্য ইতিমধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বাকি ১৬ জনের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার ফ্লাইট নির্ধারিত হয়েছে।
ইংল্যান্ড দল দ্রুত দেশে ফিরলেও অন্য দলগুলো আটকে থাকার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা উঠেছিল। তবে আইসিসি এমন অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছে।
সংস্থাটি বলেছে, “এই সিদ্ধান্তগুলো নিরাপত্তা, বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্টদের কল্যাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো কারণে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।”
আইসিসি আরও জানায়, ইংল্যান্ড বা অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে যে ভ্রমণব্যবস্থা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ প্রতিটি দলের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন রুট ও ভ্রমণ পরিস্থিতি ছিল।
বিবৃতির শেষ অংশে আইসিসি বলেছে, “এই সময় আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও কল্যাণ। আমরা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ভ্রমণে পাঠানো হবে না যে সেই যাত্রা নিরাপদ।”
এ ছাড়া কঠিন এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরার জন্য খেলোয়াড়, বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আইসিসি।
‘বুমরাকে আমিই স্লোয়ার বল শিখিয়েছি’—দাবি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসারের!
বোনের জন্মদিন এলেই কেন চোটে পড়েন নেইমার?
ইয়ামালের রেকর্ড গড়া গোলে রক্ষা বার্সার, কোচের বকুনি
যুদ্ধ ও ক্রীড়া রাজনীতি: রাশিয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নীরবতা!