কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মুরাদনগর উপজেলায় প্রথমবারের মত আবাদ হয়েছে উচ্চমূল্যের ফসল ক্যাপসিকাম। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে উপজেলায় এ বছর রবি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে প্রদর্শনীর মাধ্যম ক্যাপসিকাম আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কামাল্লা, ধামঘর, মুরাদনগর, বাংগরা পূর্ব, নবীপুর পশ্চিম, নবীপুর পূর্ব, আকবপুর বাবুটিপাড়া সহ ১৪টি ইউনিয়নে ক্যাপসিকাম আবাদ হয়েছে। বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষক তাজুল ইসলাম, ধামঘর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম, আমির হোসেন, আলিরচর গ্রামের ফাতেমা বেগম, কামারচর গ্রামের রকিব উদ্দিন, বাবুটিপাড়া গ্রামের মো. জামসেদ হোসেন প্রমুখ ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। সাধারণত বিঘা প্রতি ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বিঘা প্রতি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রয় করা যায়।
পরমতলা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আমির হোসেন জানান, তিনি প্রথমবারের মত ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন, বাজারে এর দাম ভাল থাকায় লাভের আশা করছেন, তিনি আরো জানান উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জৈব সার, রাসায়নিক সার, পলি মালচিং ফিল্ম, কীটনাশক পেয়েছেন।
বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, ধারণার চেয়েও ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি বেশ সন্তুষ্ট। নতুন এই ফসল তাকে কৃষিতে টিকে থাকার নতুন আশা দেখাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু জানান, মুরাদনগরে ক্যাপসিকাম প্রথমবার আবাদ হলেও বাজারে এর চাহিদা ও বাজারমূল্য ভাল থাকায় এর আবাদ আগামী মৌসুমে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ক্যাপসিকাম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকায় এটি মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। বিভিন্ন সালাদ, ফাস্টফুডে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজারে এর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক ভালো হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
টাইগারদের খেলা দেখতে মিরপুরে জাইমা রহমান