আগের ব্যস্ততা নেই দর্জিপাড়ায়

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৯ এএম

তৈরি পোশাকের দাপট, কাপড় ও মজুরির উচ্চমূল্য এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় আগের মতো ব্যস্ততা নেই দর্জিপাড়ায়। দুই-তিন বছর আগেও ঈদের আগে দর্জিরা দম ফেলার ফুরসত পেতেন না, কিন্তু বর্তমানে কাজের অর্ডার অনেক কমে গেছে। ফলে অনেকে অলস সময় পার করছেন।

গত রবিবার সরেজমিনে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দর্জিপাড়ায় তা একেবারে নেই বললে চলে।

কারিগর ও কর্মীরা জানান, সারা বছর যেমন-তেমন গেলেও, রমজান মাসের দিকে তাকিয়ে থাকেন তারা। এ সময় সকাল ১০টা থেকে সাহরি পর্যন্ত কাজ করেন। বাড়তি আয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ ভালোভাবে কাটাতে পারেন। এবার ২০ রোজা চলে গেল, এক দিনও সাহরি পর্যন্ত কাজ করতে হয়নি। রাত ১০-১১টার মধ্যেই কাজ শেষ হচ্ছে। দিনের বেশিরভাগ সময় গল্পগুজব করে কাটছে।

কথা হয় কোম্পানীগঞ্জ কলেজ মার্কেটের দর্জিবাড়ির কারিগর আলামিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যদের পোশাক বানিয়ে দিই। কিন্তু নিজেরাই নতুন পোশাক কিনতে পারি না। নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে মানুষ খাবার খাবে নাকি পোশাক সেলাই করবে।’

পাঞ্জাবি টেইলার্সের কাটিং মাস্টার আলীম বলেন, ‘এখন আমরা আর আগের মতো অর্ডার পাই না। আগে ঈদ এলে ঘুমানোর সময় পেতাম না। তবে এখনো নিজের পছন্দমতো পোশাক তৈরি করতে অনেকে কাপড় নিয়ে আসেন এই দর্জিপাড়ায়।’

মুরাদনগর সদরের ডায়মন্ড টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী ইয়ামিন জানান, আগের মতো এখন আর কাজের ব্যস্ততা নেই। যেখানে আগে ১৫ রমজানের পর ক্রেতাদের অর্ডার আর নেব কি না, তা ভাবতে হতো, এবার সেই চিন্তা মাথায়ই আসছে না। শুধু তা-ই নয়, কয়েক বছর আগেও একেকজন গ্রাহক তিন-চার সেট ড্রেস বানাতেন, সেখানে এখন এক-দুই সেটের বেশি অর্ডার পাচ্ছি না।

ডায়মন্ড টেইলার্সে অর্ডার দিতে আসা শাহাদাত হোসেন বলেন, মানসম্পন্ন একটি শার্ট অথবা প্যান্টের কাপড় ২ হাজার টাকার কমে  পাওয়া যায় না। পাঞ্জাবির কাপড়েরও একই রকম দাম। এরপর সেলাই করতে শার্টে ৪৫০-৫০০, প্যান্টে ৫৫০-৬০০ ও পাঞ্জাবিতে ৬০০-৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে একটি শার্টের মূল্য প্রায় আড়াই হাজার টাকা পড়ছে। এসব হিসাব করে কিছু ক্রেতা অপেক্ষাকৃত কম দামে পোশাক কিনতে তৈরি পোশাকের মার্কেটের দিকে ঝুঁকছেন। এ ছাড়া মানুষের আর্থিক সংকটও একটি কারণ হতে পারে।

মোনালিসা টেইলার্স থেকে কাপড় নিতে আসা কলেজপড়–য়া তাহিরা তাবাসসুম জানান, তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য রমজানের আগে শপিং শেষ করেছেন। তার মতো হয়তো আরও অনেকেই নিজের সুবিধামতো সময়ে রমজানের আগে অথবা প্রথম দিকে শপিং শেষ করেছেন। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লায় বহু নারী কাপড় সেলাই করেন। ঘরের পাশে সুবিধা পাওয়ায় গ্রাহক এখন আগের মতো দর্জি দোকানে ভিড় করেন না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত