চ্যাম্পিয়নস লিগে স্বপ্নের মতো এক মৌসুম কাটাচ্ছে নরওয়ের ক্লাব বোদো গ্লিম্ট। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পর্তুগালের শক্তিশালী দল স্পোর্টিং সিপিকে ৩–০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল তারা।
নিজেদের মাঠ আস্পমিরা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বোদো গ্লিম্ট। প্রথমদিকে স্পোর্টিংয়ের ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ একটি সুযোগ পেলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা।
৩২তম মিনিটে প্রথম গোল পায় বোদো গ্লিম্ট। স্পোর্টিং ডিফেন্ডার জর্জিওস ভাগিয়ানিদিস বক্সের ভেতরে সন্ড্রে ব্রুনস্টাড ফেটকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় নরওয়ের দলটি। স্পট-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেট।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে বোদো গ্লিম্ট। দারুণ এক আক্রমণ থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করেন ওলে দিদরিক ব্লোমবার্গ। এতে বিরতিতে যাওয়ার সময় ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্পোর্টিং। কর্নার থেকে এক পর্যায়ে সুযোগ তৈরি হয়, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বল ছুঁতে পারেননি সুয়ারেজ। ফলে গোলের আশা ভেস্তে যায় পর্তুগিজ ক্লাবটির।
এরপর ম্যাচের ৭০ মিনিটের দিকে তৃতীয় গোল পায় বোদো গ্লিম্ট। ইয়েন্স পেটার হাউগের দারুণ ক্রস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বল জালে জড়ান ক্যাসপার হগ। এই গোলেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে হাউগে দূরপাল্লার আরেকটি শট নিলেও সেটি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
এই জয়ে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় টানা পঞ্চম জয় তুলে নিল বোদো গ্লিম্ট। এর আগে প্লে-অফ পর্বে তারা ইতালির ক্লাব ইন্টার মিলানকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালের খুব কাছাকাছি নরওয়ের এই দলটি। ১৯৯৬–৯৭ মৌসুমে রোজেনবর্গের পর দ্বিতীয় নরওয়েজিয়ান ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাদের সামনে।
অন্যদিকে স্পোর্টিং সিপির কাজ এখন অনেক কঠিন। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় শেষ ষোলো বা এর পরের ধাপে ২০০৫ সালের পর থেকে তারা আর কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচ জিততে পারেনি।
ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ইয়েন্স পেটার হাউগে। তার দারুণ সৃজনশীলতাই মূলত স্পোর্টিংয়ের রক্ষণ ভেঙে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।
এখন সবকিছু নির্ধারণ হবে দ্বিতীয় লেগে। তবে প্রথম ম্যাচের বড় ব্যবধান বোদো গ্লিম্টকে ইতিমধ্যেই কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।
শেষ মুহূর্তের গোলে কোনোমতে হার এড়াল আর্সেনাল