শচীনকে বাদ দিতে চেয়েছিল বিসিসিআই, হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন লিটল মাস্টার!

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

শচীন টেন্ডুলকার- ভারতীয় ক্রিকেট তথা বিশ্ব ক্রিকেটের এক অবিচ্ছেদ্য নাম। টানা ২৪ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজত্ব করার পর ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে বিদায় জানিয়েছিলেন ক্রিকেটকে। কিন্তু অবসরের এক বছর আগেই নির্বাচকদের রোষানলে পড়েছিলেন ভারতের এই কিংবদন্তি। ২০১২ সালেই শচীনকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বোর্ড (বিসিসিআই)!

ভারতীয় দলের ওই সময়ের প্রধান নির্বাচক সন্দ্বীপ পাতিল সম্প্রতি এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০১২ সালটি শচীনের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছিল না। ৯টি টেস্টে তার গড় ছিল মাত্র ২৩.৮০, ছিল না কোনো সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতেও গড় ছিল মাত্র ৩১.৫০। নির্বাচক কমিটি যখন বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজছিল, তখন পাতিল সরাসরি শচীনের সঙ্গে কথা বলেন।

তার ভাষায়, ‘আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?” শচীন উল্টো প্রশ্ন করেছিল “কেন?” যখন আমি জানালাম যে কমিটি তার বিকল্প খুঁজছে, তখন সে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। শচীন আমাকে আবারও ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিল যে, আমি সিরিয়াস কি না। আমি বলেছিলাম, “হ্যাঁ”। তবে একজন নির্বাচকের ক্ষমতা নেই কোনো খেলোয়াড়কে জোর করে অবসরে পাঠানোর। শচীন বলেছিল, সে খেলা চালিয়ে যেতে চায়। আমরাও তাতে রাজি হয়েছিলাম।’

সন্দ্বীপ পাতিলের নির্বাচক প্যানেলই ভারতীয় ক্রিকেটে জসপ্রিত বুমরা, মোহাম্মদ শামি, রবীন্দ্র জাদেজা কিংবা অজিঙ্কা রাহানের মতো তারকাদের সুযোগ করে দিয়েছিল। তবে পাতিল কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, ‘মানুষ আজ বুমরা-শামিদের তুলে আনার কথা মনে রাখেনি। সবাই শুধু মনে রেখেছে যে আমরা শচীনকে বাদ দিতে চেয়েছিলাম। আমি বুঝতে পারি কেন মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছিল, কারণ তিনি তো স্বয়ং শচীন টেন্ডুলকার!’

শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিজের ২০০তম টেস্ট খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানান ভারতের ব্যাটিং ঈশ্বর। তবে এক বছর আগে নির্বাচকদের সেই সিদ্ধান্ত যে তাকে মানসিকভাবে বড় ধাক্কা দিয়েছিল, সেটা এত বছর পর প্রকাশ্যে এলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত