গোবিন্দগঞ্জে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ১৩ বছরের এক কিশোরিকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন আব্দুল মোমিন গাছু (৩৮)।

শনিবার (১৪ মে) বিকালে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

আব্দুল মোমিন গাছু  উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের গাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা মৃত গেন্দা গাছুর ছেলে।

আদালতের সিএসআই শরিফ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এর আগে ১৩ মার্চ রাতে স্থানীয় চাঁদপাড়া বাজার থেকে  আব্দুল মোমিন গাছুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তিনি পুলিশের নিকট ওই কিশোরিকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেন। এরই প্রেক্ষিতে তাকে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদনসহ আদালতে উপস্থিত করে পুলিশ। আদালতের বিচারক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার পর তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন

এদিকে, ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা জরিনা বেগম জানান, এর আগে গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে মেয়েকে বাড়িতে রেখে জুম্মার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাই। তখন তার পিতা রঞ্জু মিয়া বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাজারে দর্জির দোকানে কাজ করছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আব্দুল মোমিন তার নিজ বাড়িতে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এরপর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে তাকে হুমকি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে জরিনা বেগম বাড়িতে ফিরে আসলে মেয়েটি তার মাকে সবকিছু খুলে বলে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা আব্দুল মোমিনকে আটক করর উত্তম-মধ্যম দিয়ে থানা পুলিশে সোর্পদ করেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী বলেন, ভিকটিম ছাত্রী রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আসলে আমরা পরীক্ষা করে দেখলাম তার এ্যাক্টিভ পারভাজাইন্যাল ব্লিডিং আছে। এটি গুরুতর একটি কেস। আমরা তাকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টেপ ক্রাইসিস ইউনিটে রেফার্ড করেছি। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত