হালিশহরে বিস্ফোরণ নিয়ে কেজিডিসিএলের প্রতিবেদন

‘গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়নি’

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার সেই ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়নি বলে মতামত দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) গঠিত তদন্ত কমিটি। তারা বলছে, বিস্ফোরণের প্রধান কারণ গ্যাস লিকেজ নয়। গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে চুলা জ্বালানোর আগে ১৫-২০ মিনিট দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা- ঘটে। এ ঘটনায় একই পরিবারের নয়জন দগ্ধ হয়, এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে থাকা তিন শিশু ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছে।

এ ঘটনায় কেজিডিসিএলের বিতরণ উত্তর বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক খানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার কেজিডিসিএলের এ কর্মকর্তা সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও বিষয়টি গণমাধ্যমে জানাজানি হয় গত সোমবার। তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে কেজিডিসিএল কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, ‘প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ আছে, যা বলবেন সংস্থার প্রধানই বলবেন।’

বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় কেজিডিসিএল ছাড়াও ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দিতে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দুটি কমিটির কেউই প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। কেজিডিসিএল তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ীÑ বিস্ফোরণস্থলে বেশ কিছু জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। রান্নাঘরের চুলার পেছনে লাইনে সামান্য লিকেজ পাওয়া গেছে। তবে রান্নাঘরে দুটি দরজা, বড় জানালা ও ভেন্টিলেশন থাকায় সেখানে গ্যাস জমে থাকার সম্ভাবনা কম। বিস্ফোরণের সময় তীব্র ঝাঁকুনির কারণে গ্যাস লাইনে ক্ষতি হয়ে পরেও লিকেজ তৈরি হতে পারে বলে জানায় তদন্ত কমিটি।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বাসায় গাড়ির যন্ত্রাংশের কিছু কমপ্রেসিং ইউনিট ছিল, যেগুলোতে উচ্চচাপে গ্যাস থাকে। এ ছাড়া গাড়িতে রঙ করার কাজে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক পদার্থও সেখানে সংরক্ষণ করা ছিল। এসব দাহ্য পদার্থ থেকে কোনোভাবে আগুনের সঞ্চার হয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের সংযোগ, রাসায়নিক পদার্থ বা যন্ত্রাংশ এসবের যেকোনোটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

তদন্ত কমিটি বলেছে, ফ্ল্যাটটির ভেতরে মোট পাঁচটি স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি স্থান ছিল বারান্দাগুলোর কাছাকাছি। বিস্ফোরণের আলামত সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে রান্নাঘরের সঙ্গে লাগোয়া বারান্দা এবং পাশের করিডরে। ড্রয়িংরুমে থাকা আইপিএসের ব্যাটারিও বিস্ফোরণে ছিটকে পড়েছে এক পাশে। ঘরের আসবাবের অধিকাংশই পোড়া।

দুর্ঘটনার সময় তৃতীয়তলার ওই ফ্ল্যাটটিতে ছিল তিন ভাইয়ের পরিবার। তারা হলেন শাখাওয়াত হোসেন (৪৯) ও তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান, তার প্রবাসী ভাই সামির আহমেদ (৪০), তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান এবং ছোট ভাই শিপন হোসেন (৩০)। ঘটনার পর মারা যান তিন ভাই, দুই ভাইয়ের স্ত্রী এবং শাখাওয়াতের ছেলে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে শাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আইমান (১০) এবং সামিরের দুই সন্তান ফারহান আহমেদ (৬) ও আয়েশা (৪)।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত