গন্তব্য যেখানেই হোক ভাড়া একই!

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাসের টিকিট। প্রতিনিয়ত রাজধানীর তিনটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অভিযান চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু এই অভিযানের এক রকম আওতামুক্ত রয়েছে গ্রিন লাইন, হানিফ ও সোহাগের মতো বড় ও প্রতিষ্ঠিত কিছু পরিবহন। এসব পরিবহনের ঈদ সিস্টেম যেন খালি চোখে দেখা যায় না। আবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও তেমন নেই। তবে তাদের ঈদ টিকিটের সিস্টেমে বেকায়দায় পড়ছেন যাত্রীরা। 

ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনালে টিকিট কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারপরও লাগাম টানা যাচ্ছে না এই চক্রের সদস্যদের। বিভিন্ন সময় বাস কাউন্টারগুলোতে গিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও বেশি ভাড়া যাতে আদায় করতে না পারে, সেই বিষয়ে কাজ করছেন।

সম্প্রতি রাজারবাগ গ্রিন লাইন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে ক্ষুব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় জান্নাতুল ফেরদাউস নামে এক নারীকে। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রিন লাইন পরিবহনের টিকিট সিস্টেমে তিনি ৬০০ টাকা খুইয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে জান্নাতুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যেতে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। কিন্তু টিকিটের দাম দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে যাব যশোরে, কিন্তু বাসের ভাড়া গুনতে হলো বেনাপোল পর্যন্ত। ওই গাড়ি নাকি বেনাপোল যাবে। এখন বলেন, গাড়ি কোথায় যাবে সেটা কি আমার দেখার বিষয়? তারপরও যেখানে ঢাকা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত সোহাগ পরিবহনের বিজনেস ক্লাস সিটে ভাড়া ১৩০০ টাকা। কিন্তু গ্রিন লাইন একই শ্রেণির সিটে ভাড়া নিল ১৬০০ টাকা। একই রুটে, একই পথে, একই ক্লাসের গাড়িতে দুটি পরিবহন দুই রকম ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ফালগুনি পরিবহন ঢাকা থেকে বাগেরহাট পর্যন্ত এসি সার্ভিসে ৪০০ টাকা এবং নন-এসি-তে ২৫০ টাকা ভাড়া বেশি আদায় করছে। অন্য সময় এই পরিবহনের এসি গাড়িতে ভাড়া নেয় ৮০০ টাকা, ঈদে সেটা বেড়ে ১২০০ টাকা করা হয়েছে। নন-এসি গাড়িতে নিত ৭৫০ টাকা, ছুটির কারণে ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। 

সোহাগ পরিবহন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা এবং বেনাপোল রুটে নিয়মিত এসি ও নন-এসি বাস পরিচালনা করে। পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল রুটে তাদের বিশেষ স্ক্যানিয়া বিজনেস ক্লাস বাস চলাচল করে। এদিকে গ্রিন লাইন পরিবহন বিলাসবহুল এসি বাস ও সিøপার সার্ভিস পরিচালনা করে। এটি মূলত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, টেকনাফ, খুলনা, বেনাপোল, রাজশাহী রুটে বাস সার্ভিস দেয়। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি সিলেট ও বেনাপোল এবং ঢাকা-খুলনা-কলকাতা রুটে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামে আন্তর্জাতিক সার্ভিস পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাস সার্ভিস হানিফ এন্টারপ্রাইজ। যা ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর এবং পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে এসি ও নন-এসি বাস পরিচালনা করে। 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোটখাটো বিষয়ে জরিমানা ও সাজা হচ্ছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের। সম্প্রতি ৬ টাকার জন্য পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে সোহাগ পরিবহনকে। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক উৎসবের সময় বিমানের টিকিটের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন কেউ কোনো কথা বলে না।  ঈদের আগে-পরে ১০ দিন (১৩-২৩ মার্চ) এসব পরিবহন তাদের পলিসিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। এসব কাউন্টারে কোনো যাত্রীকে অতিরিক্ত দিতে বাধ্য করা হয় না। তারা পরিবহনের সর্বশেষ গন্তব্যের ভাড়া নিচ্ছে, এতেই ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সোহাগ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক তালুকদার সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা থেকে একটি বাস বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছাড়া হচ্ছে। এসব গাড়ি যাত্রী নামিয়ে আবার খালি ফিরে আসছে। এতে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ঈদের সময় বেশি চাপে পড়তে হয় পরিবহন মালিকদের।

তিনি বলেন, আমার একটা গাড়ি বেনাপোল যাচ্ছে। সেই গাড়িতে ফরিদপুর, নড়াইল ও যশোরের যাত্রী ওঠার দরকার নেই। যদি কেউ এই পথে ভ্রমণ করতে চায়, তাহলে নির্ধারিত ভাড়া দিতে হচ্ছে।  তিনি বলেন, একটি পরিবহন খালি গেলেও যে খরচ, যাত্রী থাকলেও একই খরচ। ঈদের আগে পরিবহনগুলো নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে গন্তব্যের ভাড়া নিয়ে থাকে। প্রতিটি এলাকার জন্য পরিবহন সার্ভিস আছে। তাহলে একজন যাত্রীকে তো বেশি অর্থ দিয়ে ট্রাভেল না করলেও হয়। তিনি তার এলাকার পরিবহনে যাতায়াত করতে পারেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত