মহারাষ্ট্রে নতুন ধর্মান্তর আইন নিয়ে বিতর্ক

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:০১ এএম

ভারতের মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় পাস হওয়া নতুন ধর্মান্তর আইন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। রাজ্যটিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি বলছে, এ আইনের একমাত্র লক্ষ্য হলো জোরপূর্বক, জালিয়াতি বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তর প্রক্রিয়া প্রতিরোধ করা। তবে বিরোধীরা বলছে, তর্কের সময় বিরোধী দলগুলো আপত্তি জানিয়ে বলে, এ আইনটি বাস্তবে বৈষম্যমূলক হতে পারে; এতে গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও হয়রানির আশঙ্কাও রয়েছে। গত সোমবার রাতে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা বিল ২০২৬’ আইনটি কণ্ঠভোটের মাধ্যমে পাস হয়। এই বিলে জোরপূর্বক, জালিয়াতি, প্রলোভন দেখিয়ে অথবা বিয়ের মাধ্যমে ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন এই বিল অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে অবৈধভাবে ধর্মান্তরিত করলে দোষী ব্যক্তির সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা হবে। এ ছাড়া যদি কোনো নাবালক, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, নারী অথবা সংখ্যালঘু জাতি ও উপজাতিভুক্ত কাউকে ধর্মান্তরিত করা হয়, তবে সাত বছরের জেল এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার নিয়ম রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘দলগতভাবে ধর্মান্তর’-এর ক্ষেত্রেও সাত বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার করেন, অর্থাৎ একই অপরাধ বারবার করেন, তবে তার সাজা বেড়ে ১০ বছরের জেল এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস বলেন, মহারাষ্ট্রের এই প্রস্তাবিত ধর্মান্তরবিরোধী আইন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। তিনি আরও জানান, ওড়িশা, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, কর্ণাটক এবং ঝাড়খণ্ডের মতো ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যে এই ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে। দেবেন্দ্র ফড়নবিস আরও বলেন, এই বিল সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া নাগরিকের নিজস্ব ধর্ম পালনের অধিকারকে কোনোভাবেই খর্ব করে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ধর্ম পালনের অধিকার মানে কাউকে জোরপূর্বক, ভুল তথ্য দিয়ে কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করা নয়। এর আগে সাংবাদিকদের ফড়নবিস বলেন, অনেক নারীকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করার পর তাদের ফেলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। জালিয়াতির মাধ্যমে এমন ধর্মান্তর রোধ করতেই এই বিল আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলো ভোটব্যাংকের স্বার্থে বিষয়টিকে অহেতুক রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে বিলটি মন দিয়ে পড়লে তাদের আর কোনো আপত্তি থাকবে না। তিনি আরও জানান, এ আইনের আওতায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজে অথবা তার নিকটাত্মীয়রা অভিযোগ করতে পারবেন। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে পুলিশ নিজেও ব্যবস্থা নিতে পারবে। নাগরিকদের বেআইনি ধর্মান্তর থেকে রক্ষা এবং রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই বিলের মূল উদ্দেশ্য। তবে বিধানসভায় বিতর্কের সময়ই বিরোধী দলগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। মহা বিকাশ আঘাড়ি জোটের মধ্যেও মতভেদ দেখা যায়। শিব সেনা (ইউবিটি) বিলটির পক্ষে থাকলেও, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (শরদ পাওয়ারপন্থি) এবং সমাজবাদী পার্টি এর বিরোধিতা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত