ঈদে পোশাক কেনার পাশাপাশি ঘর সাজানোর অনেক কিছু কিনে থাকেন অনেকেই। নতুন জিনিসপত্র আর পুরনো সবকিছু নিয়ে কীভাবে আপনার বাড়িঘর সাজাবেন তার জন্য এখন থেকেই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন
ঘর পরিষ্কার
ঈদের আগেই ঘরবাড়ি ডিপক্লিনিং করে নিতে হবে। যে জায়গাগুলো অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে তাহলো সোফার পেছনে, বিছানার নিচে, কিচেন কেবিনেট, সব ধরনের লাইট, ড্রয়ার, সিলিং ফ্যান, পর্দা লাগানোর রড, বাসার সামনের এরিয়া, বাথরুম, জানালা ইত্যাদি। বাসায় যদি এসি থাকে তাহলে ঈদের আগে সার্ভিসিং করে ফেলতে হবে । সুযোগ থাকলে কিচেন চিমনিও পরিষ্কার করে নিন।
চাদর, পর্দা, কুশন বাছাই
সারা বছর ঘরে পর্দা লাগানো নিয়ে তেমন কোনো ভাবনা কাজ না করলেও উৎসবের দিনগুলোতে নতুন পর্দা লাগাতে চান অনেকেই। আবহাওয়া, ঘরের আকার, আসবাব ও দেয়ালের রঙ দেখে ঘরের পর্দা বাছাই করে নিন। মনে রাখবেন দেয়ালের রঙ ও আসবাবের সঙ্গে পর্দা যেন সামঞ্জস্য হয়। গরমের এ সময়ে হালকা নেট, জুট কটনের পর্দা বেশি মানানসই। ঘরে প্রশান্তি বজায় রাখতে হালকা রঙের পর্দা বেশি উপযোগী হবে। সাদা, অফহোয়াইট. গোলাপি, সবুজ, আকাশি বা পিচ কালারের পর্দা হতে পারে আপনার ঘরের জন্য পারফেক্ট। বসার ঘরের সোফা, কুশন কভারসহ পর্দার রঙ যেন সামঞ্জস্য হয়। শোবার ঘরের বিছানার চাদর এবং বালিশের কভার বদলে ফেলুন। উজ¦¦ল রঙের বেড কভার বেশি উপযোগী হবে। ডাইনিং রুমের টেবিল ক্লথের সঙ্গে চেয়ারের কভার বেছে নিতে পারেন।
সৌন্দর্য বাড়াতে অদলবদল
ঘরের নতুনত্ব আনতে আসবাবপত্রে ছোটখাটো পরিবর্তন আনতে পারেন। মেঝেতে বিছিয়ে দিতে পারেন শতরঞ্জি কিংবা রাগ। বিছানার পাশের টেবিলে রেখে দিন তাজা ফুল। ডাইনিং টেবিলের মাঝে ক্যান্ডেল স্টান্ড ও ফুলদানিতে ফুল কিংবা ইনডোর প্ল্যান্ট দিয়ে সাজাতে পারেন। ঘরের কোনো একটা দেয়ালে ওয়ালপেপার লাগিয়ে সাজাতে পারেন। ঘরের পাপোশগুলো পরিষ্কার করে নিন অথবা নতুন পাপোশ বিছিয়ে দিন। বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জা যেমন ল্যাম্প শেড, তারা বা মরিচ বাতিগুলো রাখতে পারেন। দরজার সামনে বা বারান্দায় উইন্ড চাইম লাগাতে পারেন। ঘরে স্নিগ্ধ আবহ আনতে সুগন্ধী মোমবাতিও রাখা যায়। ঘরের বারান্দা বড় হলে ঝুলিয়ে দিতে পারেন দোলনা । বসার ঘরে কোনো কর্নার থাকলে সেখানে একটা কর্নার টেবিল দিতে পারেন। সেখানে রাখতে পারেন শোপিস, ফটোফ্রেমে নিজেদের ছবি।
ফ্রিজ, ওভেন, বেন্ডার পরিষ্কার
ঈদের সময় রান্না করা নানা ধরনের খাবার রাখার জন্য ফ্রিজে জায়গার দরকার হয়। তাই ফ্রিজে রাখা বাড়তি সব খাবার সরিয়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করে নিন। ডিটারজেন্ট গোলানো পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে ফ্রিজ ভেতরে ভালো করে ক্লিন করুন। যদি কোনো গন্ধ থাকে তাহলে অল্প ভিনেগার অথবা লেবুর রসও ব্যবহার করতে পারেন। তেমনি অনেক বেশি ওভেনেরও ব্যবহার হয়। তাই এক বাটি পানিতে সামান্য ভিনগার ও লেবরি রস মিশিয়ে এক মিনিট ওভেন চালিয়ে নিন। এতে গন্ধ চলে যাবে। এরপর এক টুকরো কাপড় ভিজিয়ে পুরো ওভেনটা পরিষ্কার করে নিন। তেমনি ব্লেন্ডারটা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে পারেন।
রান্নাঘর পরিষ্কার
ঈদে রান্নাঘর ক্লিন করা অনেক জরুরি। সবার আগে যে জিনিসগুলো আপনার আপতত দরকার নেই সেগুলো রান্নাঘরের ওপরের দিকে কেবিনেটে তুলে রাখুন। আর যে জিনিসগুলো আপনার ঈদের দিনে দরকার হবে সেগুলো সামনের দিকে সাজিয়ে রাখবেন। রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখতে জীবাণুনাশক তরল দিয়ে মেঝে, সিংক পরিষ্কার করে নিন। মসলার কৌটাগুলো পরিষ্কার করে নতুন করে সাজিয়ে নিন। রান্নাঘরের কাজ আরেকটু এগিয়ে রাখার জন্য ঈদের দুদিন দিন আগে শোকেস থেকে প্লেট, গ্লাস, চামচ ইত্যাদি বের করে ধুয়ে মুছে রাখুন। এতে মেহমান এলে ঝামেলায় পড়তে হবে না।
জিনিস বাদ দেওয়া
অনেকেই ব্যবহার না হলেও সে জিনিসগুলো দিনের পর দিন ঘরে রেখে দেন। এতে যেমন ঘরের জায়গা নষ্ট হয়, তেমনই নোংরাও হয়। ঈদের আগে চেষ্টা করুন অব্যবহৃত জিনিসগুলো ফেলে দিতে। রান্নাঘর, ওয়্যারড্রোবের ওপরে, আলমারির ওপরে কিংবা টেবিল, ড্রেসিং টেবিল জুড়ে থাকা জিনিসগুলোর মাঝে বাছাই করুন কোনটি বেশি দরকার। শুধু সেগুলোই হাতের কাছে রাখুন। বাকি জিনিসগুলো কাউকে দিয়ে দিন কিংবা বাতিল করতে পারেন।
ঈদের রান্না
ঈদের রান্নায় কোন কোন রেসিপি রাখবেন সেটি এখনই ঠিক করে নিন। এতে প্রয়োজনীয় সব কিছু লিস্ট করে বাজার থেকে এনে রাখতে পারবেন। প্যাকেটজাত দুধ, কোল্ড ড্রিংকস, জুস, আইসক্রিম, ফ্রোজেন আইটেম ইত্যাদি এনে ফ্রিজে রেখে দিন। রান্নার সময় যেন হাতের কাছেই পাওয়া যায় তাই মসলা গুঁড়া করে কিংবা বেটে রাখুন।
ইনডোর প্ল্যান্ট ও আলোর ব্যবহার
ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে এবং ঘর সাজাতে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারেন। এতে পুরো ঘরের সৌন্দর্যই পাল্টে যাবে। ইনডোর প্ল্যান্টগুলোর মধ্যে অ্যালোভেরা, মানি প্ল্যান্ট, লাকি ব্যাম্বু, লিলি, ফিলোডেনড্রন হার্টলিফ, মিকান্স, স্নেক প্ল্যান্ট রাখতে পারেন। ঘরে সাজিয়ে রাখা সবুজ আপনার মন তো ভালো রাখবেই, সঙ্গে ঘরকেও রাখবে শীতল। ঘরে সঠিক আলো ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেকটা। তাই ঘরের বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োজন বুঝে ডেকোরেটিভ লাইট দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন।