নতুন পোশাক, হাতভর্তি মেহেদির গাঢ় রঙে ঈদ উৎসবের পরিপূর্ণতা দেয়। চাঁদ রাতের সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে যে ব্যস্ততা শুরু হয়, তার বড় অংশ জুড়ে থাকে মেহেদির নকশা বাছাই ও মেহেদি পরা। সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে রুচি, বদলাচ্ছে মেহেদির নকশা। তবে হাজার বছরের পরম্পরা একই রয়ে গেছে
ডিজাইনের ট্রেন্ড
২০২৬ সালের ঈদ মেহেদির ট্রেন্ডে রয়েছে মিনিমাল ও এলিগ্যান্ট লুক। ভারী, পুরো হাতজোড়া ভরাট ডিজাইনের বদলে এখন অনেকেই পছন্দ করছেন হালকা, খোলা জায়গা রাখা নকশাকে। যাকে বলছেন ‘নেগেটিভ স্পেস’ স্টাইল। পাতার ডাল, সূক্ষ্ম ফুল, সরু লাইন আর জ্যামিতিক প্যাটার্ন মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে আধুনিক ও পরিপাটি নকশা। তরুণীদের মধ্যে কবজি থেকে আঙুল পর্যন্ত লম্বা সরু ডিজাইন এবং হাতে ছোট ম্যান্ডালা নকশাও বেশ জনপ্রিয়।
সবচেয়ে বেশি চলছে আরবিক ডিজাইন। বড় ফুল, পাতা ও বাঁকানো রেখার সমন্বয়ে তৈরি ঢেউখেলানো প্যাটার্ন। যা দ্রুত আঁকা যায় এবং দেখতে আকর্ষণীয়। পাশাপাশি ফিউশন ডিজাইনও নজর কাড়ছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পেইসলি মোটিফের সঙ্গে আধুনিক জ্যামিতিক নকশা নতুনত্ব যোগ করেছে। যারা একেবারে সিম্পল পছন্দ করেন, তারা ট্যাটু-স্টাইল ছোট নকশা বা আঙুলকেন্দ্রিক ডিজাইন বেছে নিতে পারেন। ছোটদের বা টিনএজদের মধ্যে গ্লিটার বা স্টোন সংযুক্ত ডিজাইনও অল্প বিস্তর দেখা যাবে ঈদের মেহেদির নকশায়।
মেহেদির ধরন
মেহেদির ধরন মূলত দুইভাবে ভাগ করা যায় ডিজাইন ও উপাদান অনুযায়ী। ডিজাইনের দিক থেকে রয়েছে আরবিক, ইন্ডিয়ান, ব্রাইডাল, মডার্ন জ্যামিতিক, ম্যান্ডালা ও ফিউশন স্টাইল। আর উপাদানের ভিত্তিতে পাওয়া যায় ন্যাচারাল হেনা, কেমিক্যাল মিশ্রিত ইনস্ট্যান্ট হেনা, ব্ল্যাক হেনা এবং গ্লিটার হেনা।
প্রাকৃতিক হেনা আসে গাছের পাতা গুঁড়া করে তৈরি পেস্ট থেকে, আর ইনস্ট্যান্ট বা ব্ল্যাক হেনায় রঙ গাঢ় করতে বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। ত্বকের নিরাপত্তার কথা ভাবলে প্রাকৃতিক বা অর্গানিক হেনাই সবচেয়ে নিরাপদ। এতে কৃত্রিম রঙ বা ক্ষতিকর উপাদান থাকে না, ফলে অ্যালার্জির ঝুঁকি কম। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, কালো রঙের ইনস্ট্যান্ট হেনা ব্যবহারে সতর্ক থাকতে, কারণ এতে পিপিডি (চচউ) নামক রাসায়নিক থাকতে পারে, যা ত্বকে জ্বালা, ফুসকুড়ি বা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। নতুন কোন ব্র্যান্ড ব্যবহার করার আগে হাতে সামান্য অংশে পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো।
টিপস
রঙ গাঢ় ও ত্বক নিরাপদ রাখতে মেহেদি দেওয়ার আগে ও পরে যা করতে পারেন তাহলো মেহেদি দেওয়ার আগে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। চাঁদরাতে লাগালে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় পায় রঙ ধরতে। আধা শুকালে লেবু-চিনির মিশ্রণ হালকা লাগালে রঙ গাঢ় হয়। মেহেদি হাত থেকে তোলার পর অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পানি এড়িয়ে চলুন। স্পর্শকাতর ত্বকে আগে প্যাচ টেস্ট করুন। নিজের পোশাক ও বয়স অনুযায়ী ডিজাইন বেছে নিন।