পাঞ্জাবিতে আতরের গুবাস

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

ভেষজ উৎস থেকে উৎপাদিত প্রাকৃতিক সুগন্ধি হলো আতর। মুসলমানদের কাছে আতর হলো জনপ্রিয় ও অধিক ব্যবহৃত হালাল সুগন্ধি।

নামিদামি বিভিন্ন ব্রান্ডের প্রতিষ্ঠান এখন সুগন্ধি বাজারজাত করছে। অনেক ফ্লেভারের ভিড়ে মূলত দুই ধরনের সুগন্ধির বিক্রি বেড়েছে আতর ও অ্যালকোহলমুক্ত পারফিউম। জনপ্রিয় পাঁচটি আতর হলো আমির আল উদ, জুপি, আলফে জোহরা, লড ও আল ফারেজ। জনপ্রিয় পাঁচ পারফিউমের তালিকায় রয়েছে সিকে-১, কুল ওটার, চকলেট, আসিল ও কাশ্মিরি উদ। ভালো মানের আতর প্রস্তুতকারক হিসেবে যেসব ব্রান্ড বেশি পরিচিত তার মধ্যে রয়েছে আল রিহাব, আল নাইম, আল ফারহান, আল রেজাউল, আলিফ, আল তহা, আল কামার, আল রিহান, আত তাইয়েবা ও আল ইসরা। এসব প্রতিষ্ঠানের সেরা পণ্যের তালিকায় আছে জান্নাতুল ফেরদাউস, শাহী দরবার, সালমা, গুলে লায়লা ও পয়জন। বড় বড় শপিং মলের পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম মার্কেটের দোকানগুলোতে আতর পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন নামে নির্দিষ্ট পরিমাণে বোতলে ভরে বাজারজাত করে। অন্যদিকে বিশেষ ধরনের কৌটায় করেও খোলা বাজারে ছাড়া হয় নানা ধরনের আতর-পারফিউম।

ভালো আতরের খোঁজে

আতর সাধারণত তোলা হিসেবে বিক্রি করা হয়। উদই সবচেয়ে ভালো আতর। এরপরে আছে ‘লর্ড’ আতর। যা সৌদি আরবেরই তৈরি। বায়তুল মোকাররম মার্কেটের যে আতরের দোকানগুলো রয়েছে, সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার (এক তোলা) টাকা দামের আতর রয়েছে, তার নাম উদ আতর (সৌদি আরব)। এ ছাড়া দামি আতরের মধ্যে আছে আল হারমাইন শেখ (এক তোলা ২০ হাজার টাকা), কস্তুরি (এক তোলা ১৪ হাজার টাকা) ও মুস্তাহ আল তাহারা (এক তোলা সাড়ে ৪ হাজার টাকা)। তবে আতরের দোকানগুলোয় বেশি বিক্রি হচ্ছে আলিফ, আল ফারহান, আল ইসরাত, আল রিসাব, জান্নাতুল ফেরদাউস, রজনীগন্ধা, বকুল, সুরভি ও বেলি ফুলের আতর। একশ মিলিলিটারের সুলতান ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা, আলফারেজ ২ হাজার, লর্ড ১২শ, সিলভার ১৮শ, ওপেন ১৫শ, আলফে জহুর ২ হাজার, ব্ল্যাক অ্যাকসেস ১৫শ, রোজ ১৭শ, ডাহনাল উদ ৫ হাজার, ইস্কাদা কালেকশন ১৫শ, ইগুবস ১৬শ, বস ১৫শ এবং ম্যাডার রোজ ব্র্যান্ডের আতর ১৬শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি শিশি সৌদির রয়্যাল ম্যারেজ ৫০ টাকা, ওয়ান ম্যান শো ১২০, শপিজ ৬০০, ভারতের কোবরা ২৫০, বোম্বে দরবার ৩০০, নূর ৩০০ এবং ইরানি গাউজ আতর ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। দেশি আতর পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। এর মধ্যে দরবার-কাঁচাবেলী ২০ টাকা, মদিনা ৪০ এবং জান্নাতুল ফেরদাউস ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।  দেশি শাহী দরবার আতর ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রজনীগন্ধা ৪০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানালেন। বায়তুল মোকাররম মার্কেটে ভালো মানের আতর ৩ এমএল ২০০-৫০০ টাকা, ৬ এমএল ৫০০-১০০০ টাকা এবং ১২ এমএল ১০০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। মধ্যম মানেরটা বিক্রি হয় ৩ এমএল ১০০-২০০ টাকা, ৬ এমএল ৩০০-৬০০ টাকা এবং ১২ এমএল ৫০০-১২০০ টাকা। নিম্নমানের বেলায় ৩ এমএল ৫০-২০০ টাকা, ৬ এমএল ২০০-৫০০ টাকা এবং ১২ এমএল ৪০০-৮০০ টাকা। দেশি কোম্পানি ফারহানের আতর ৬ মিলি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় এবং আলিফ কোম্পানির আতর ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়ে থাকে।

কোথায় পাবেন

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, পল্টন, নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, সদরঘাট, চকবাজার, ইসলামপুর, ওয়াইজ ঘাট, মিটফোর্ড, ফার্মগেট, পল্টন, মতিঝিল, লালবাগ, রামপুরা, উত্তরা, বনানী, মিরপুর, শান্তিনগর, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আতর পাবেন। বিভিন্ন অনলাইন থেকেও আতর কিনতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্র্যান্ড ও মান নিশ্চিত হয়ে নিবেন।

আতরের স্থায়িত্ব

আবহাওয়া, কোন ধরনের কাপড়ে ব্যবহার করছেন এর ওপর আতরের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। যেমন গরম, আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত ঘামের কারণে গ্রীষ্মের সময় আতরের ঘ্রাণ কম স্থায়ী হয়। আবার যেসব ঋতুতে আবহাওয়া তুলনামূলক ঠা-া থাকে সে সময়ের আতরে স্থায়িত্ব বেশি। আতর পুরোপুরি অর্গানিক না হওয়ায় ত্বকে না মেখে পোশাকে মাখাই ভালো। ত্বকে আতর বেশিক্ষণ স্থায়ীও হয় না। একই ধরনের আতর সবসময় ব্যবহার না করে পরিবর্তন করাই শ্রেয়। একই ঘ্রাণে আপনি অভ্যস্ত হবে না। ভালো মানের আতর পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সুঘ্রাণ স্থায়ী হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত