গভীর রাতে পাচার হচ্ছিল জ্বালানি তেল, ধরে ফেলল স্থানীয়রা

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

জামালপুর সদর উপজেলায় সোহেল রানা (৩৫) ও আল আমিন নামে দুই তেল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কালোবাজের পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ ড্রাম পেট্রোলসহ ১১ জনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে জব্দকৃত পেট্রোলসহ তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন।

বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাতে সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের কালিবাড়ি বাজার এলাকা থেকে পেট্রোলসহ তাদেরকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার নেপাল মিয়ার ছেলে ও আল আমিন মাদারগঞ্জ উপজেলার শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

আটককৃতরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার তেলিপাড়া এলাকার মৃত আলতাফুর রহমানের ছেলে হাকিম মিয়া (৪০), বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি কাটাপুর বাজার এলাকার দুলাল ব্যাপারির ছেলে ফুল মিয়া (৩৮), সদর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে হাফিজুর রহমান (৪০), মাদারগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুর এলাকার খোরশেদের ছেলে শাহ জামাল (৫০), মেলান্দহ উপজেলার ইন্দ্রবাড়ী এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মারুফ হোসেন (২৪), সরিষাবাড়ি উপজেলার চর জামিরা এলাকার মৃত আলহাজ্ব সোরহাব মন্ডলের ছেলে জগলু মিয়া (৪৪), একই এলাকার শাবান মুন্সীর ছেলে মো.জহুরুল ইসলাম (৪৫) এবং সরিষাবাড়ি উপজেলার সেঙ্গুয়া এলাকার গোলাজার হোসেনের ছেলে সবুজ মিয়া (৪০), বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি এলাকার আরজ আলীর ছেলে মনির হোসেন (৪৫), মেলান্দহ উপজেলার ফুলকোচা ইউনিয়নের তেলীপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে চালক হামিদুর রহমান (৫২) ও মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ এলাকার ফজল মিয়ার ছেলে চালক আলতাফুর রহমানসহ (৪৮)।

প্রত্যাক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, মধ্য রাতে কয়েকটি গাড়িতে করে বিপুলসংখ্যক তেলের ড্রাম নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর নজরে আসে। স্থানীয়দের বিষয়টি সন্দেহ হলে গাড়িগুলো থামিয়ে তল্লাশি করে। পরে ৭টি গাড়িতে থাকা ১৫ ড্রাম পেট্রোল দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে ১৫ ড্রামে প্রায় ৩ হাজার ১০০ লিটার পেট্রোল ও গাড়ির চালকসহ ১১ জনকে আটক করেন তারা। পরে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তাদের আটক করা হয়।

প্রত্যাক্ষদর্শী সৌরভ বলেন, রাতে আমরা কয়েকজন মিলে কালীবাড়ি বাজারে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় কয়েকটা গাড়ি দেখে আমাদের সন্দেহ হলে আমরা গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসা করি। এ সময় গাড়ির চালক ও গাড়িতে থাকা লোকজন পেট্রোলের বিষয় স্বীকার করেন। পরে আমরা গাড়িসহ তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিদেরসহ জব্দ করা পেট্রোল ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। আমরা এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা কালোবাজারে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। স্থানীয় তেল ব্যবসায়ী সোহেল কালোবাজারে বিক্রি করা পেট্রোল পাচারকালে তাদের আটক করা হয়েছে। আমরা এই তেল পাচারকারীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে। তারপর আদালতের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত