গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা বুধবার রাতের। পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মালবিষয়ক সম্পাদক পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটানো হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এদিকে এই ঘটনায় বুধবার রাতেই পলাশবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পলাশ আহমেদসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়।
অপরদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, সিসিটিভির ভিডিও দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে জামায়াতের বায়তুল মাল বিষয়ক সম্পাদক পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২১ জন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে ঢুকে পড়েন। তারা পলাশবাড়ী বাজারের একটি মুরগির দোকান পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে থানার ওসি সরোয়ারে আলম খানের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা ওসিকে দোকনটি তালাবদ্ধ করতে বলেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন বলে জানিয়ে দেন। এতে তারা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পলাশের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে এলোপাথারিভাবে লাথি ও কিল ঘুসি মারেন।
হামলাকারীরা থানার কক্ষে ঢুকে সরকারি বিভিন্ন রেজিস্টারপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। এতে বাধা দিলে তারা কয়েকজন কনস্টেবলকে মারধর করেন। পরে পলাশ আহমেদ থানা ঘেরাও করার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে আহতদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলার বাদী রুহুল আমিন বলেন, পুলিশের ওপর আক্রমণ করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটকাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান মুঠোফোনে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের নেতাকর্মী থানায় যান।
জামায়াত নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কোনো কর্মী এই ঘটনায় জড়িত আছে কিনা থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
