এসএসসি-এইচএসসি প্রতিবছর ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০১:২৬ এএম

শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় কমাতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দেশের সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার বিষয়টিও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে চলতি বছর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। গত বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত পরিকল্পনা জানানো হয়। একই দিন সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিকল্পনার বিষয়গুলো ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। এ ছাড়া পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছর বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এ বছর থেকে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সুযোগ দেখছি না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সভায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বোর্ড পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনা, বিষয়ের সংখ্যা কমানো, সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ এবং কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মতো নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সভায় জানানো হয়, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী দশম শ্রেণি শেষে পরবর্তী বছরে এসএসসি এবং একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে শিক্ষাজীবনের প্রায় দুই বছর সময় নষ্ট হয়। এ প্রেক্ষাপটে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার সম্ভাব্যতা যাচাই করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের মান ও মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্র ও কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার আগে কেন্দ্রগুলোর বাস্তব অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কেন্দ্র পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, নকল ও প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে

            পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১ >

এসএসসি-এইচএসসি প্রতি বছর ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা

 

 ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অতীতে ঘটে যাওয়া অনিয়মের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে

পৃষ্ঠা ১১ কলাম ০ >

 প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশেষ করে ২০২৩ সালের একটি কেন্দ্রের অনিয়মের ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপে বিলম্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট নথি তলব করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয়ের সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনা যাচাই করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি পরীক্ষার চাপ কমানো এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ দেবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্র সচিব ও স্থানীয় প্রশাসনের সে ঙ্গ মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত