নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার কাঠমান্ডুতে নিজ বাসভবন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এর পরপরই তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে নেপালে তরুণরা যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছিল, তাতে প্রাণঘাতী দমন অভিযান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থানের সময় সেখানে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন যাদের মধ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত অনেক বিক্ষোভকারী রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে এ আন্দোলন শুরু হলেও এর পেছনে দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজ করেছিল। পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই সহিংসতার তদন্তে গঠিত প্যানেল এ দুজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে মামলা করার সুপারিশের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন শাহর শপথের একদিন পর এই গ্রেপ্তার ঘটনা ঘটলো। কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানান, নেপালের বিশেষ আদালতের সাবেক বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। ওলির বয়স এবং তার দুবার কিডনি প্রতিস্থাপনের ইতিহাস বিবেচনায় তাকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ওলি ও লেখকের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনতার ব্যাপক বিক্ষোভ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে গত ১১ তারিখ পদত্যাগ করেন কে পি শর্মা ওলি। রমেশ লেখক তার আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। ওলি এর আগে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে সাবেক পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংকেও গ্রেপ্তারের সুপারিশ করা হয়েছিল। নেপালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা, নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়; এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ওলিকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন তার সমর্থকরা। পদত্যাগের পর নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের অধীনে জনবিক্ষোভ ও অভ্যুত্থান তদন্তে সাবেক বিশেষ জজ গৌরী বাহাদুর কার্কিকে প্রধান করে একটি কমিশনও গঠন করা হয়।

আন্দোলনের মধ্যে পদত্যাগ করা ওলি গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর মাত্র তিন বছরের পুরনো দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ২৭৫ সদস্যের পার্লামেন্টে ১৮২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া কেপি শর্মা অলির দল সিপিএন-ইউএমএল পেয়েছে ২৫টি আসন। নেপালের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একক কোনো দলের সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হলেও, কয়েক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত