ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে সড়ক নির্মাণ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৭ এএম

শেরপুর-ময়মনসিংহ বিকল্প সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ করার শর্ত ছিল। কিন্তু অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতায় তিন বছরেও কাজের ৪০ ভাগ শেষ হয়নি। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সময় এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করলেও অধিগ্রহণের কাজ আগায়নি। আগামী জুনে সময় বাড়ালে শর্তমতে কাজের মূল্য বাড়াতে হবে। এতে অপচয় হবে সরকারি অর্থ। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রতায় কাজ থমকে আছে।

জানা যায়, শেরপুর-ময়মনসিংহের দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটার। তবে এই বিকল্প সড়কটি হয়ে গেলে দুই জেলার মধ্যে ২০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে। শেরপুর-ময়মনসিংহের অনগ্রসর বিশাল চরাঞ্চলের ভেতর দিয়ে বিকল্প ওই সড়কটি করার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের সহজ যোগাযোগ ও অনগ্রসর চরাঞ্চলবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৪৪ কিলোমিটার, প্রস্থ ৩৩.৭৮ ফুট। সড়কে ধরা হয়েছে বড় ৮টি সেতু ও শতাধিক ছোট-মাঝারি কালভার্ট।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, এই প্রকল্পের কাজ চারটি প্যাকেেেজ ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্যাকেজ সদর উপজেলার কানাশাখোলা থেকে শুরু হয়ে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার। দ্বিতীয় প্যাকেজ চন্দকোনা থেকে ময়মনসিংহের রামভদ্রপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার। এই দুই প্যাকেজের কাজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব শেরপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের। বাকি দুই প্যাকেজের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের ওপর ১ হাজার ৪৭১ মিটার ব্রিজ ও রামভদ্রপুর-পুরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ পর্যন্ত সাড়ে ১৯ কিলোমিটার সড়ক বাস্তবায়ন করছে ময়মনসিংহ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রথম প্যাকেজের কিছু কাজ বাস্তবায়ন হলেও, স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাকি কাজ হচ্ছে না। উপরন্তু প্যাকেজ শুরুর অংশ কানাশাখোলা বাজারে জেলা পরিষদের একটি মার্কেট ভাঙার অনুমতি না পাওয়ায় শুরুর অংশেই কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। আর দি¦তীয় প্যাকেজের ১১ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ কিলোমিটার কাজ শেষ করে আট মাস বসে আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাকি ৬ কিলোমিটার সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না।

অপরদিকে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, জেলার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩০ শতাংশ। আর সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এখানেও ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা রয়েছে। সড়কের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন দীর্ঘদিন কাজ করেনি বলে জানিয়েছেন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত আলী। তিনি আরও জানান, এ কারণে গত মাসে ঠিকাদার বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগ ও অধিগ্রহণ জোরদার করে কাজের গতি আনা হবে।

শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম জানান, স্থাপনা উচ্ছেদ ও অধিগ্রহণ না হওয়ায় হাতে কোনো কাজ থাকবে না। ফলে প্রকল্পের কাজ আগামী মাসে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সময়ের অপচয়ের সঙ্গে সঙ্গে আগামীতে কাজের মূল্য বাড়বে। এতে সরকারের আরও বেশি অর্থ ব্যয় হবে। 

শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফতার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘লোকবল সংকটে অধিগ্রহণ বিলম্ব হয়েছে। জেলা পরিষদের স্থাপনা ভাঙতে স্থানীয় সরকারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অধিগ্রহণ ও যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত