বিস্ফোরক পাতো, 'একমাত্র মেসিই পারে দাঁড়িয়ে থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে'

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

এক সময় তাকে বলা হতো ব্রাজিলের পরবর্তী 'রোনালদো নাজারিও'। এসি মিলানের ড্রেসিংরুমে মালদিনি, কাকা আর পিরলোদের মাঝখানে ১৭ বছরের সেই বিস্ময়বালক আলেক্সান্দ্রে পাতো আজ ৩৬ বছর বয়সে এসে দাঁড়িয়েছেন ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায়। সম্প্রতি 'দ্য অ্যাথলেটিক'-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে পাতো কথা বলেছেন আধুনিক ফুটবলের যান্ত্রিকতা, ইনজুরির বিভীষিকা এবং কেন লিওনেল মেসিই বর্তমান সময়ের একমাত্র ব্যতিক্রম।

ফুটবল এখন আর 'ধ্রুপদী সংগীত' নয়

সাক্ষাৎকারে পাতো বর্তমান ফুটবল এবং দুই দশক আগের ফুটবলের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরতে গিয়ে চমৎকার এক উপমা ব্যবহার করেছেন। তার মতে, আগের ফুটবল ছিল অনেকটা 'ক্ল্যাসিকাল মিউজিক' বা ধ্রুপদী সংগীতের মতো ছন্দময়। কিন্তু বর্তমান ফুটবল হয়ে গেছে অনেক বেশি যান্ত্রিক এবং শারীরিক শক্তি নির্ভর।

পাতো বলেন, "আমি ২০১৮ সালে পিরলোর বিদায়ী ম্যাচে খেলতে গিয়ে অনুভব করলাম, ফুটবল ছিল সুরের মতো। আর এখনকার খেলা হচ্ছে অনেকটা 'ধপ ধপ শব্দের মতো কঠিন। পৃথিবী বদলে গেছে। এখনকার ফুটবলে আপনি '১০ নম্বর' পজিশনের খেলোয়াড়দের খুব একটা দেখতে পাবেন না। আপনি যদি মাঠের নিচে নেমে দলের জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি না খাটেন, তবে আপনি ক্লাবের বাইরে।"

ব্যতিক্রম শুধু লিওনেল মেসি

আধুনিক ফুটবলের এই দৌড়ঝাঁপ আর ট্যাকটিকাল শৃঙ্খলের মধ্যে পাতো একমাত্র লিওনেল মেসিকেই ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন। তার মতে, একমাত্র মেসির জন্যই ফুটবল তার পুরোনো সৌন্দর্য ধরে রেখেছে।

পাতো স্পষ্টভাবে বলেন, "এখন একমাত্র লিওনেল মেসিই পারে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে আর বাকি দল তার জন্য সব কাজ করে দিতে। কারণ বল তার পায়ে থাকলে আপনি নিশ্চিত জানেন যে সে গোল করবেই। কিন্তু বাকি সবার জন্য এখন কেবল প্রতিভা যথেষ্ট নয়, সবাইকে প্রচুর দৌড়াতে হয়। আপনি যদি কোচের কথা না শোনেন, তবে আপনি দলের বাইরে।"

মেসি ও পাতো

রোনালদিনহো-রোনালদোরা কি এই ফুটবলে টিকতেন?

পাতো মজা করে কল্পনা করার চেষ্টা করেছেন, যদি তার সাবেক সতীর্থ রোনালদিনহো বা রোনালদো নাজারিওকে আজকের যুগে খেলতে হতো, তবে কী হতো? পাতোর মতে, তারা হয়তো বর্তমানের এই কড়া ট্যাকটিকাল নির্দেশ মানতেই পারতেন না।

তিনি হাসতে হাসতে বলেন, "রনিকে (রোনালদিনহো) যদি আজ বলা হতো প্রতিপক্ষের ৮ নম্বর খেলোয়াড়কে মার্ক করতে হবে, সে নির্ঘাত হেসেই উড়িয়ে দিত। আর রোনালদোকে যদি বলা হতো ডিফেন্ডারদের ওপর চড়াও হতে, সে বলত— 'বন্ধুরা, আমি এখানেই আছি, তোমরা শুধু বলটা আমার কাছে পৌঁছে দাও'।"

ইনজুরির অন্ধকার দিনগুলো

ক্যারিয়ারের শুরুতে অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকলেও মিলানে থাকাকালীন ১৬ বার হ্যামস্ট্রিং এবং কোয়াডসের চোটে পড়েন পাতো। এই ইনজুরিগুলোই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাতো স্মৃতিচারণ করেন, "লোকে শুধু মাঠের খেলা দেখে, কিন্তু মাঠের বাইরে সুস্থ হওয়ার সেই দীর্ঘ লড়াই কেউ দেখে না। বারবার ইনজুরিতে পড়ে আমি নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম।"

পাতো

ব্রাজিল ও আনচেলত্তি প্রসঙ্গ

আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে পাতো বেশ আশাবাদী। বিশেষ করে তার প্রিয় কোচ এবং বন্ধু কার্লো আনচেলত্তি যখন ব্রাজিলের দায়িত্বে (প্রেক্ষিত বিবেচনা)। পাতো মনে করেন, ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা এখন আর কেবল সুন্দর ফুটবল চায় না, তারা চায় জয়।

সাক্ষাৎকারের শেষে পাতোর বার্তা ছিল পরিষ্কার— আধুনিক ফুটবলে কেবল ট্যালেন্ট দিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব। তিনি বলেন, "ব্রাজিল সবসময় প্রতিভার ওপর নির্ভর করে, কিন্তু বর্তমান ফুটবল বদলে গেছে। এখন প্রতিভার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা এবং কঠোর শৃঙ্খলা না থাকলে শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকা অসম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত