গ্রিসে ২ বছরে প্রায় ৫ লাখ গবাদি পশু হত্যা

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৫ এএম

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া বসন্ত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গ্রিসে চার লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি ভেড়া ও ছাগল হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে গ্রিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য ফেটা (পনির) হুমকির মুখে পড়েছে। খামারিদের ভাষ্য, ব্যাপকভাবে গবাদি পশু হত্যার সিদ্ধান্তে মাংস ও দুধ উৎপাদন কমেছে।

গ্রিসের উচ্চমানের পনির উৎপাদন শিল্প অনেকাংশে মেষপালকদের ঘরে ঘরে পালিত ভেড়া ও ছাগলের দুধের ওপর নির্ভরশীল। গণহারে গবাদি পশু হত্যার ফলে গ্রিক মেষপালকদের অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য সংশ্লিষ্ট শিল্পের ওপরও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। পনির উৎপাদনকারীরা জানান, এ বছর দুধ উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমে গেছে। মহামারী যাতে ছড়াতে না পারে, এ জন্য কর্র্তৃপক্ষ গবাদি পশু মালিকদের জন্য নানা বিধিনিষেধ চালু করেছে। এই নীতি অনুসারে, আগের মতো গবাদি পশুকে উন্মুক্ত মাঠে চরে বেড়াতে দেওয়া যাবে না। যেসব খামারির নিজস্ব চারণভূমি আছে, তারা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। বাকিদের বলা হয়েছে নিজ আস্তাবলে রেখে প্রাণীদের খাবারের ব্যবস্থা করতে। ৫৯ বছর বয়সী খামারি জর্জস জেনিটাইডিস জানান, ৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রাণীদের খামার থেকে বের করিনি।

এ বিষয়ে কস্তাস থিওফিলোউ নামের খামারির সঙ্গে এএফপির প্রতিবেদক কথা বলেন। থিও তার খালি আস্তাবলের দিকে শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, তিনটি পরিবারের জীবিকা প্রাণীগুলোর ওপর নির্ভর করত। দেখুন আমার কত বড় ক্ষতি হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সে আমি এখন নতুন করে কি কাজ করব? থিওফিলোউ-এর খামার একসময় ভেড়ার ম্যা ম্যা ডাক ও তাদের গলায় বেঁধে রাখা ঘণ্টার শব্দে মুখরিত ছিল। কিন্তু এখন পুরো খামারে এক আধিভৌতিক নীরবতা নেমে এসেছে। এএফপিকে থিওফিলোউ বলেন, আমি আজীবন মেষপালকের কাজ করেছি। অন্য কোনো কাজ করার স্মৃতি নেই। আমি শুধু ভেড়াই চিনি। ফেটা পনির উৎপাদনের ৪৫ শতাংশ হয় থেসালি অঞ্চলে। মূলত ভেড়া ও ছাগলের দুধ থেকে তৈরি হয় এই অভিজাত ও পুষ্টিকর খাবার।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে শীতল আবহাওয়ার কারণে মহামারীর প্রকোপ কমে এসেছে। পাশাপাশি, অনেক খামারি তাদের গবাদি পশুগুলোকে বুলগেরিয়া ও তুরস্ক থেকে আনা টিকা দিচ্ছেন। এতেও ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে পশুবিজ্ঞানীরা যুক্তি দেন। গ্রিসে এ ধরনের টিকার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও খামারিরা জীবন-জীবিকা বাঁচাতে ঝুঁকি নিচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত