যশোরে মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগে মামুনুর রশিদ নামে এক স্কুলশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকান্ডের ১৭ ঘণ্টার মধ্যে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ৮ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত আনোয়ারা খাতুন (৫৫) যশোরের কোতোয়ালি থানার বাজেদুর্গাপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেনের স্ত্রী ও গৃহিণী।
পিবিআই জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে মামুনুর রশিদ কাজ শেষ করে নিজ বাড়িতে যান। সেখানে মায়ের কাছে গোসলের জন্য গামছা চান। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ পাশে থাকা বঁটি দিয়ে মাকে এলোপাতাড়ি কোপান। গুরুতর আহতাবস্থায় পড়ে গেলে তিনি আরও হামলা চালান এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে পিবিআই যশোরের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। নিহতের ছেলে মঞ্জুর হাসান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। এসআই রতন মিয়াকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে এসআই রতন মিয়া, এসআই মো. বাবুল ইসলামসহ পিবিআইয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুর রশিদ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামুনুর রশিদ ঝিকরগাছার লাউজানি এন এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। প্রায় সাত-আট বছর আগে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে ওই স্ত্রী চলে যাওয়ার পর প্রায় তিন-চার বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীও একই কারণে তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর তিনি নিজ বাড়ি ছেড়ে কর্মস্থলের পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন এবং মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, দুই স্ত্রী চলে যাওয়ার জন্য মামুনুর রশিদ তার মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। ঘটনার দিনও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি মায়ের ওপর হামলা চালান।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, হত্যাকা-ের পর আসামি মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয় তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকা-ের ১৭ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।