মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রীকে জড়িয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৮ এএম

কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রীকে জড়িয়ে ‘মন্দিরে আগুন’ সংক্রান্ত অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রচারণাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিনষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর এক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রতিবাদ জানান মুরাদনগর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথ, মুরাদনগর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অধ্যাপক দীন দয়াল পাল, সংগঠনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ ঠাকুর। আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি রতন দাস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার দাসসহ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথ বলেন, মুরাদনগরের ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বাড়ির পাশে একটি মন্দির ও একটি বটগাছ রয়েছে, যেখানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মানত করা হয়। মানত শেষে অনেকেই সেখানে কাপড় বেঁধে দেন। সম্প্রতি ওই বটগাছে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও ধারণ করে কিছু ফেসবুক পেজ থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চলছে।

তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও তৈরি করে ধর্মমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনকে জড়িয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়। আমরা এ অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
মুরাদনগর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অধ্যাপক দীন দয়াল পাল বলেন, ঘটনাস্থল আমার বাড়ির কাছেই, প্রায় ১০০ গজ দূরে। সেখানে কোনো প্রতিমা স্থাপন করে পূজা করা হয় না; এটি একটি বটগাছ, যেখানে মানুষ মানত করে। রাতের আঁধারে কে বা কারা সেখানে আগুন দিয়ে সেটি ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত অপচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, মুরাদনগরে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।

সংগঠনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ ঠাকুর বলেন, মন্দির সংলগ্ন বটবৃক্ষে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার। এর মাধ্যমে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি সকলকে গুজবে কান না দিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানাই।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত