গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া ফেরীঘাটে দুর্ভোগ!

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৬ এএম

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ-সীতাকুণ্ড নৌরুটে গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া ফেরীঘাট উদ্বোধনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। জোয়ারের সময় হাঁটু সমান বা তারও বেশি পানি মাড়িয়ে যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামতে হচ্ছে; কখনও ছোট বোটে করে তীরে পৌঁছাতে হচ্ছে। গত বছরের ২৪ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভার্চুয়ালি এই নৌরুট উদ্বোধন করেন। সে সময় দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

মঙ্গলবার বাঁশবাড়িয়া প্রান্তে সরেজমিনে দেখা যায়, বিআইডব্লিউটিসি পরিচালিত জাহাজ এম ভি মালঞ্চ থেকে যাত্রীদের হাঁটুসমান পানিতে নেমে তীরে আসতে হচ্ছে। জোয়ার বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়-তখন জাহাজ সরাসরি ঘাটে ভিড়লেও যাত্রীদের ছোট বোটে করে নামানো হয়। উঁচু জোয়ারের সময় জাহাজ ও ফেরি দু’প্রান্তেই একই চিত্র। যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়েই গাড়ি চালিয়ে পন্টুনে উঠতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনি লবণাক্ত পানিতে যানবাহনের বডি ও যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মালবাহী ট্রাকচালক মিন্টু বলেন, জোয়ারের পানিতে ট্রাক চালিয়ে পন্টুনে ওঠা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। লোনা পানিতে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 উঁচু বা মাঝারি জোয়ারের সময় ওঠানামার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নির্মিত বিকল্প পথে অস্থায়ী কাঠের সেতু ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সেটি নিরাপদ নয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মই বেয়ে ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাবিহা বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে এভাবে ওঠানামা করা খুবই বিপজ্জনক। পা পিছলে পানিতে পড়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া জাহাজ ভিড়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

জানা গেছে, ফেরীঘাটের দুই প্রান্তে পন্টুন ও সড়কের মাঝামাঝি প্রায় ৫০ ফুট অংশ জোয়ারের পানির প্রবাহে মাটি সরে গিয়ে নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে জোয়ারের সময় ওই অংশে হাঁটুসমান বা তারও বেশি পানি জমে। এতে যাত্রী ও যান চলাচল কার্যত অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিকল্প পথে যাত্রী ওঠানামায় প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে, আর গাড়ি পরিবহনে সময় লাগছে আরও বেশি। স্থানীয়দের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ ও সড়ক সামান্য উঁচু করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রী এবং অসংখ্য যানবাহন এ নৌরুট ব্যবহার করছে। বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এম ভি মালঞ্চ ও ফেরি কপোতাক্ষ নিয়মিত চলাচল করছে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক নয়ন শীল দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি সোমবার সরেজমিনে ঘাট পরিদর্শন করেছি। যাত্রী ও যানবাহন পারাপার সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”দ্বীপবাসীর দাবি, দ্রুত স্থায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে এ নৌরুটে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত