পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তরমুজ ক্ষেতের জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উজ্জ্বল কর্মকার (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত উজ্জ্বল কর্মকার বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের অজিত কর্মকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে তরমুজ চাষ করে আসছিলেন কৃষক ফিরোজ গাজী। তবে শুরু থেকেই নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের মিজানুর রহমান জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে ফিরোজ গাজী তরমুজ কাটতে শুরু করলে মিজানুর রহমান ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়ে সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে ফিরোজ গাজীকে মারধর করা হয়। এ সময় ফিরোজ গাজীর চিৎকারে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে মিজানুর রহমান, উজ্জ্বল কর্মকার, শামীম, ফিরোজ গাজীসহ কয়েকজন আহত হন। পরে রাত ৮টার দিকে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উজ্জ্বল কর্মকারকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত মিজান, শামীম ও ফিরোজ গাজীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়াও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে পাবনা সাঁথিয়ার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের ঘুঘুদহ পূর্বপাড়া গ্রামের আফছার সরদার (৪৫) নামে এক দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত দিনমজুর আফছার সরদার ঘুঘুদহ পূর্বপাড়া গ্রামের কাজি সরদারের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে দিনমজুর আফছার সরদারের আর্তচিৎকারে পাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়েছিল। এ অবস্থায় এলাকাবাসী আফছার সরদারকে উদ্ধার করে সাঁথিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেয়ে আমেনা খাতুন বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করায় পূর্বশত্রুতার জেরে তার বাবা আফসারকে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বাবার ওপর হামলা চালায়। তখন তিনি আত্মরক্ষার্থে বাড়িতে পালিয়ে আসেন। গত রাতে তারা বাবাকে একা পেয়ে হত্যা করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’
নিহত আফছারের মা আবেদা খাতুনের অভিযোগ, তার ছেলে সহজ-সরল। ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সাঁথিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ মনে করেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকা- ঘটতে পারে। এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
