রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তারা

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

এক-এগারোর কুশীলব সাবেক সেনা কর্মকর্তারা রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে। জিজ্ঞাবাদের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুম করার সংকেত আগেই দেওয়া হয়েছিল। ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধ এবং পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই বাঁধ ও চুক্তি ওই দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইলিয়াস আলী এর বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন। এসব কারণে সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইলিয়াস আলীকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তদন্ত সূত্র আরও জানায়, শেখ হাসিনা তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান ও র‌্যাবের মহাপরিচালকে গুমের মিশন বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন। গুমের পুরো প্রক্রিয়া রেকি ও বাস্তবায়ন করে র‌্যাব-১। র‌্যাবকে সহযোগিতা করে ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তা।

সবচেয়ে বড় ভূমিকা ও ইলিয়াস আলী গুম মিশনের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে ইলিয়াস আলী গুমের তথ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ মামুন নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে দায় চাপাচ্ছেন অন্যদের ওপর। তার ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনা ঘটনার আগে-পরে জিয়াউলের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে বনানী থেকে গুম করে নেওয়া হয় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে। সেখানে ইলিয়াসকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে মারধর করা হয়। তুলে নেওয়ার পর ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের কোনো এক রাতে ইলিয়াস আলীকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হতে পারে জানিয়েছেন শেখ মামুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত