সংসারে বরকত লাভের উপায়

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

মুসলিম সমাজে বরকত শব্দের বহুল ব্যবহার রয়েছে। মানুষ সব কাজে মহান আল্লাহর কাছে বরকত কামনা করে। স্থান, কাল, পাত্রভেদে বরকতের একাধিক অর্থ হয়ে থাকলেও প্রতিটি অর্থই কল্যাণের। বরকত বলা হয় ওই জিনিসকে যাতে আল্লাহতায়ালার কল্যাণ নিহিত থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, সংখ্যায় অল্প, কিন্তু তা কল্যাণকর ও তৃপ্তিদায়ক। যাতে মনে প্রশান্তি থাকে, থাকে না কোনো হাহাকার। সংসারে বরকত লাভ হয় এমন কয়েকেটি কাজ ও উপায় কথা উল্লেখ করা হলো।

সকালবেলা কাজ শুরু করা : দিনের শুরুতে কাজ আরম্ভ করা। যদি কারও অফিস বা ব্যবসার কাজ একটু দেরিতে শুরু হয় তবে নিজ ঘরের কাজ দিয়ে হলেও সকাল সকাল কাজ আরম্ভ করা। কেননা সকালবেলার কাজে আল্লাহতায়ালা বরকত দান করেন। রাসুল (সা.) মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে সকালবেলায় বরকত দান করুন।’ সুতরাং কেউ যদি সকালে সময়টুকু ঘুমিয়ে থাকে তবে কীভাবে বরকত আসবে? এ কারণেই দিনের শুরুতে মহান আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ আরম্ভ করার মাধ্যমে বরকত ও কল্যাণ কামনা করা জরুরি।

আল্লাহর নামে শুরু করা : হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন খাবার খায় আর যদি বিসমিল্লাহ বলে (আল্লাহর নামে শুরু করে) তবে শয়তান ওই খাবারে অংশগ্রহণ করতে পারে না। যেটুকু খাবার আছে তা (পরিমাণে কম হলেও) তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। অনুরূপভাবে কেউ যদি ঘরে প্রবেশ করার সময় বিসমিল্লাহ বলে তখনো শয়তান তার সঙ্গে ঘরে ঢুকতে পারে না। এভাবে বান্দা যখন সব কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করে, তখন শয়তান সব কাজ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে সব কাজেই বরকত লাভ করা যায়।

নামাজ পড়া : দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ নিজে যেমন আদায় করতে হবে তেমনি পরিবারের অন্যান্য লোকদের নামাজ আদায়ের ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। তাদেরকে নামাজের নির্দেশ দিতে হবে। কেননা এমন অনেকেই আছেন যে, নিজে নিয়মিত নামাজ পড়েন ঠিকই কিন্তু পরিবারের সদস্যদের নামাজের ব্যাপারে কোনো খোঁজ রাখেন না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাজের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন।’ (সুরা তাহা ১৩২)

কোরআন তেলাওয়াত করা : কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো খুবই জরুরি। কোরআন তেলাওয়াত, অধ্যয়ন এবং কোরআন অনুযায়ী জীবন গড়া ইসলামের দাবি। যে যত বেশি কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে তার জন্য তত বেশি বরকত নেমে আসবে। যে ঘরে কোরআন তেলাওয়াত হবে, কোরআনের চর্চা হবে, কোরআনের ওপর আমল করা হবে, সে ঘরেই নেমে আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও কল্যাণ।

দান-সদকা করা : বেশি বেশি দান করা ইসলামের শিক্ষা। দান-সদকার মাধ্যমে বরকত লাভ করা যায়। অনেক হাদিসে এটি প্রমাণিত যে, দানের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা বিপদাপদ দূর করে দেন। এ কারণেই রাসুল (সা.) বলেছেন, দান করার কিছু যদি না থাকে তবে একটি খেজুর দান করার মাধ্যমে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করো। সুতরাং দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে পরিমাণে কম হলেও সাধ্যানুযায়ী দান করা উচিত। এর মাধ্যমে তার ওপর নেমে আসবে বরকত ও কল্যাণ।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা : আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বরকত ও কল্যাণ লাভ করা যায়। এটি অনেক পরীক্ষিত একটি আমল। আত্মীয়স্বজন তথা মা-বাবা, ভাই-বোন তথা রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা। আত্মীয়দের কেউ খারাপ আচরণ করলেও তাদের সঙ্গে নিজ থেকে সুসম্পর্ক রাখা। প্রয়োজনে সাধ্যানুযায়ী তাদের সাহায্য করা। সাহায্য করতে না পারলে তাদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা। আর এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে নেমে আসবে বরকত ও কল্যাণ।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত