এক বিষয়ে ৫ বার পরীক্ষায় দিয়েও ব্যর্থ, মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও পরীক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হওয়ার হতাশা থেকেই তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম অর্পিতা নওশিন (ছদ্মনাম শারমিন বলেও পরিচিত)। তিনি কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট ছিলেন।

সহপাঠীদের ভাষ্য, প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও অর্পিতা এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও তিনি পাস করতে পারেননি। একই ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে উঠলেও তিনি প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন।

সহপাঠীরা আরও জানান, মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন অর্পিতা। ঘটনার দিন তিনি বিপুল পরিমাণ ঘুমের ওষুধ (এভেন্ডার ৪০ মিলিগ্রাম) সেবন করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান অভিযোগ করেন, তার বোনকে শুরু থেকেই এনাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের পক্ষ থেকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হতো।

তিনি বলেন, আমার বোন অন্য সব বিষয়ে পাস করলেও একটি বিষয়ে বারবার ফেল দেখানো হয়েছে। সমস্যা কোথায়, সেটাও পরিষ্কার করা হয়নি। এই মানসিক চাপই তাকে শেষ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগের দিনও বোনের সঙ্গে তার কথা হয়। পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন অর্পিতা।

এ বিষয়ে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন ও এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য তা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত