নকলায় কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিতরণ 

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

শেরপুরের নকলায় দীর্ঘদিন ধরেই বাইকের তেল সংকট। দুর দুরান্ত থেকে আগত বাইকারদের ভিড়ে উপজেলার বাইকাররা তেল না পাওয়ায় হাতাহাতি হয় বাইকারদের মধ্যে। এর ফলে জেলা প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বাইকের পেট্রোল বিতরণ করে নকলা উপজেলা প্রশাসন। রবিবার সারাদিন মাইকিং করা হয় সকল বৈধ কাগজপত্র এবং হেলমেট নিয়ে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করার জন্য। 

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮ টা থেকে উপজেলার জালালপুর সাকিব ফিলিং স্টেশনে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত সহকারী সচিব সাদিয়া আফরিন এ্যানি। 

অভিযানকালে সাদিয়া আফরিন এ্যানি বলেন, সকাল থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন কার্ড এবং হেলমেট বিহীন ৪টি বাইককে ৫০০ টাকা করে ২ হাজার, ডাবল তেল নিতে আসলে ১টি বাইককে ১ হাজার এবং অন্য চালককে দিয়ে দ্বিতীয়বার তেল নিতে পাঠানোর দায়ে ১ বাইককে ২ হাজার সহ মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে কাগজপত্র বিহীন বাইকাররা পাম্প থেকে প্রায় ২ শত মিটার দুরে অবস্থান নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে অভিযান শেষ হলে তারা পাম্পে গিয়ে পেট্রোল সংগ্রহ করবে। এ সময় কাগজপত্র বিহীন প্রায় হাজার খানেক বাইকারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 

৪ হাজার ৫ শত লিটার পেট্রোল পাম্পে আসে ২ দিন পর পর। উপজেলায় ২ টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে।  এদের মধ্যে ২ দিন পর পর একেক ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল পায়। প্রতি ফিলিং স্টেশনে বাইকারের সিরিয়াল থাকে প্রায় ৩ হাজার। বোতল বা কন্টেইনারে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

সংকট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আদেশ জারি করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানী।

সাকিব ফিলিং স্টেশনের মালিক আলহাজ্ব শামছুর রহমান আবুল বলেন, ৩দিন ঘুরে ১ দিন পেট্রোল পাই। অকটেন পাই না, তেলের চাহিদা বেশি, আমাদেরকে তেলের ব্যবস্থা করে দেন। ১ গাড়িতে সারে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল পাই যা ৪/৫ ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এরপর ৩ দিন বসে থাকি। আমাদেরকে পর্যাপ্ত ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনের ব্যবস্থা করে দেন। পাম্পে অকটেন প্রায় ২ মাস ধরে নাই।

সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয় জনপ্রতি ৫ শত টাকা করে দুপুর ২ টা পর্যন্ত চলে পেট্রোল বিতরণ। দুপুর ২ টার পর বৈধ কাগজপত্র ধারী প্রায় ৫ শতাধিক বাইকার তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত  করার চেষ্টা করলে ওসি রিপন চন্দ্র গোপের নেতৃত্বে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত