নির্দিষ্ট বছর পরপর হয় না, ব্লাড মুন বা পূর্ণগ্রাস চন্দ্র্রগ্রহণ। সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদের একটি বিশেষ সারিবদ্ধ অবস্থানের কারণে এটি দেখা যায়, যেখানে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে তাকে লালচে করে। এটি বিরল ঘটনা নয়, এক দশকে ৪-৫টি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ পৃথিবী থেকে দেখা সম্ভব। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্য অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেলেও, চাঁদ হয় গাঢ় লালচে। তাকে বলে ‘রক্তচাঁদ’। কেন এই নাম, তা নিয়ে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। তার ওপর সূর্যের আলো পড়ে। তা-ই পৃথিবীতে প্রতিফলিত হয়। চাঁদ এবং সূর্যের মধ্যে পৃথিবী চলে এলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের ওপর। সেই সময় হয় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। চাঁদ পুরোপুরি কালো হয় না। এর বদলে লাল হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো গ্রহণ করে, তখন সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম প্রতিসরিত হয় এবং তা চাঁদের ওপরে গিয়ে পড়ে। অন্য দিকে, সূর্যরশ্মির নীল অংশটি চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। তাই চন্দ্রগ্রহণের সময়ে গাঢ় কালচে লাল দেখা যায়। কিন্তু কখনো কালো দেখায় না। চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না। খালি চোখে দেখা যায় গ্রহণ। সেই গ্রহণের সময়ে চাঁদ থাকে ফ্যাকাশে। তবে আবহাওয়া অবশ্যই অনুকূল থাকতে হবে। এই গ্রহণের সময়, অনেক ধরনের রশ্মি পৃথিবীর আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীর ভয়ের কিছু নেই। কারণ একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, কোনো অশুভ বিষয় নয়। এ সময় বিশেষ কোনো সতর্কতা বা বিধিনিষেধের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।