আমার কিছু স্বপ্ন আছে

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯ এএম

বাংলাদেশের সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন কুমার বিশ্বজিৎ। সংগীতের প্রায় সব শাখায় তার অবাধ বিচরণ। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া বহুমুখী এই প্রতিভা দীর্ঘদিন ধরেই কানাডায় রয়েছেন। মাঝে-মধ্যে দেশে এলেও দুর্ঘটনায় আহত সন্তানের পাশে থাকার জন্য ফিরে যান কানাডায়। গানের প্রতি বরাবরই আলাদা এক টান রয়েছে তার। সেই টান থেকে বৈরী সময়েও মাঝখানে কণ্ঠে গান তুলে নেন তিনি। পাশাপাশি কানাডা থেকে তিনি জানালেন, সংগীত নিয়ে তার কিছু স্বপ্নের কথা। 

এই সংগীত তারকা বলেন, ‘মানুষের অনেক স্বপ্ন থাকে, যার মধ্যে কিছু কিছু স্বপ্ন পূরণের জন্য মন বড্ড ব্যাকুল থাকে। সংগীত জীবনে আমার বিচরণ চার দশকেরও বেশি সময়। এতদিন যা কিছু সামান্য অর্জন করতে পেরেছি, তা থেকে মনে হয় নতুন প্রজন্মকে কিছু দিয়ে যাই। আমার খুব ইচ্ছা, আমরা সচরাচর যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা নেই, সেখানে হয়তো ব্যাকরণগত বিষয়গুলো থাকে। ওস্তাদরা গান শেখান, গান তুলে দেন। কিন্তু আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন থেকে অনেক নামি সংগীত পরিচালক এবং বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। স্টুডিওতে তাদের গায়কি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তখন মনে হয়েছে পার্থক্যটা কোথায়? একজন শিল্পী হয়তো খুব নিখুঁত গাচ্ছেন, কিন্তু গানটা প্রাণে লাগছে না।’

 কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, মাইক্রোফোন ফেস করতে করতে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে বুঝেছি ‘থ্রোয়িং’ (Throwing) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গানের একটি থিম থাকে কখনো বিরহ, কখনো বিচ্ছেদ, কখনো দেশপ্রেম আবার কখনো বা বিদ্রুপ। একজন শিল্পীর মূল কাজ হলো কথা ও সুরের সঙ্গে অভিনয় করা। আর এই লিরিক্যালি অভিনয় করতে গেলে প্রয়োজন বাতাসের সঠিক ব্যবহার বা বায়ু প্রক্ষেপণ। কখনো পেট থেকে, কখনো বুক থেকে, কখনো কণ্ঠ, তালু কিংবা নাসিকা ব্যবহার করে আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়। এটি ভীষণ কঠিন একটি শিল্প। যেমন আমার গাওয়া মা, প্রেম তো পরের জমি নয়, ছোট ছোট আশা, জন্মিলে মরিতে হবে- একটু ডিফরেন্ট ভয়েজ টোনের কাজ।’

নিজের স্বপ্নকে বিশ্লেষণ করা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রসঙ্গে এই শিল্পীর ভাষ্য, ‘সবমিলিয়ে আমার বহুদিনের স্বপ্ন, নতুন প্রজন্মের জন্য ভয়েজ থ্রোয়িং শেখানোর একটি প্রতিষ্ঠান বা স্কুলিং করা। সেটি অনলাইন বা নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রভিত্তিক হতে পারে। আমি যদি আমার এই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতাটুকু তাদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে পারি, তবেই নিজেকে সার্থক মনে করব। এর পাশাপাশি আমার আরেকটি স্বপ্ন আছে। সংগীত অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাধ্যম, যা মানুষের অনুভূতি ও উপলব্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মিউজিক মানুষের অন্তরের জ্বালা বা কষ্ট অনেকটা লাঘব করে দেয়। তাই আমার ইচ্ছা, একটি ‘মিউজিক্যাল হিলিং সেন্টার’ করা। যাকে বলে মিউজিক থেরাপি, যেটি মেডিকেল সায়েন্সে একটি খুব এপ্রোভ থিউরি। তবে এটি কোনো প্রথাগত মেডিকেল ট্রিটমেন্ট নয়, বরং একটি নন-মেডিকেল সাপোর্ট সেন্টার। যেখানে মানসিক অবসাদে থাকা মানুষ কিংবা বিশেষভাবে সক্ষম (ফরংধনষবফ) ব্যক্তিরা আসবে। মিউজিকের মাধ্যমে তাদের মনে আনন্দ জোগানো, স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এবং হারানো উচ্ছ্বাস জাগিয়ে তোলাই হবে এর লক্ষ্য। সারা বিশ্বে এখন মিউজিক থেরাপি জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশে এমন সেন্টার খুব কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংগীত নিয়ে এই দুটি বিশেষ পরিকল্পনা আমি অতিসত্বর বাস্তবায়ন করতে চাই। এটি করতে পারলে আমি পরম আত্মতৃপ্তি পাব। অন্যদিকে আমি সামনে আমার সংগীত ক্যারিয়ারে চার দশক উদযাপনের পরিকল্পনা করছি, একটু বড় পরিসরে। ভিন্ন আঙ্গিকে করার চিন্তা রয়েছে। এসব নিয়ে কাজ চলছে এখন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত