রোমাঞ্চকর পিঁপড়া

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

পিঁপড়া কিন্তু বাস্তুহারা নয়! মাটি, গাছের গোড়া কিংবা বাসাবাড়ির মেঝের ফুটোতে মাটি খুঁড়ে কিংবা ঝরঝরে মাটি জড়ো করে উঁচু ঢিবির মতো বাসা বানিয়ে থাকে। কিছু প্রজাতির পিঁপড়া, শুকনো পাথরের নিচে বসতি গড়তে পছন্দ করে। ফলে পিঁপড়ার বাসা উষ্ণ এবং শুষ্ক থাকে। তারা ঢিবি বানানোর কাজে ওস্তাদ। স্থানভেদে এসব ঢিবি, লার্ভা থেকে সন্তান জন্ম নেওয়ার জন্য পরিমিত তাপমাত্রা এবং উপযুক্ত পরিবেশ দেয়। তখন তারা মাটি খুঁড়ে অনেক সরু সুড়ঙ্গ তৈরি করে।  অনেকে মনে করতে পারেন, একটি ঢিবির ভেতর কয়েক হাজার পিঁপড়া মিলে আর কয়টা সুড়ঙ্গ তৈরি করবে? কিন্তু জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপে প্রায় ৬৭০ একর বিস্তৃত পিঁপড়া কলোনি পাওয়া গেছে। যেখানে প্রায় ৪৫ হাজার সংযুক্ত সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে দশ লাখ রানী পিঁপড়ার অধীনে প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন  শ্রমিক পিঁপড়া কাজ করছে।  শ্রেণিভেদে কাজ ও মর্যাদা তাদের ভিন্ন। পিঁপড়া সমাজে তিন শ্রেণির সদস্য দেখা যায় রানী, পুরুষ (ড্রোন) এবং শ্রমিক পিঁপড়া। রানী পিঁপড়া পুরো পিঁপড়া সমাজের মধ্যমণি। রানী পিঁপড়া একসঙ্গে হাজার হাজার ডিম পেড়ে, তৈরি করে নতুন সমাজ। যখন ঢিবি নির্মাণ হয়, তখন রানীর ঠাঁই মেলে সবচেয়ে গভীর কক্ষে। শিকারি প্রাণী, পতঙ্গ এবং অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রানীকে সুরক্ষিত রাখতে এমন করা হয়। পিঁপড়ারা কথা বলার মাধ্যমে যোগাযোগ করে। তাদের কথা বলার ভাষা রাসায়নিক। অন্য পিঁপড়া নিজের অ্যান্টেনার সাহায্যে সেই পদার্থের ঘ্রাণ নেয় এবং এর মাঝে লুকানো তথ্য উপলব্ধি করতে পারে। পিঁপড়ারা ঘ্রাণের মাধ্যমে সব ভাব আদান-প্রদান করে না। পিঁপড়ার আয়ু প্রজাতি এবং ভূমিকার ওপর নির্ভর করে। কর্মী পিঁপড়া সাধারণত ১ বছর থেকে ৩, রানী পিঁপড়া ৩০ বছর এবং পুরুষ পিঁপড়া মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাঁচে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত