গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যু

সরকারকে চাপে রাখতে বিরোধীদের ধারাবাহিক কর্মসূচি

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে চাপে রাখতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দলগুলো। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিফলেট বিতরণ, জাতীয় সেমিনারসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সংসদে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিষয়টি জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলন থেকে জোটের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

এরমধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শাহবাগে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি। এরপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় সেমিনার হবে। সংবাদ সম্মেলনে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের পর নতুন সরকার গঠিত হয়ে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গণভোটে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্বাচিত সরকার গণভোটের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের ছলচাতুরী এবং টালবাহানার আশ্রয় নিচ্ছে। মানুষের ম্যান্ডেটকে শুধু উপেক্ষা নয়, উপহাস, অপমানকর নানা ধরনের বক্তব্য জাতীয় সংসদের ভেতরে এবং বাইরে অব্যাহতভাবে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, জুলাই অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে যে জনআকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করেছে তা নির্বাচন পরবর্তী সময় অন্তত সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য থাকবে। সরকারি দল এবং বিরোধী দল আন্তরিকভাবে সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করবে।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত করতে যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ছিল, তার মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার পাস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটি বাংলাদেশের মানুষকে মর্মাহত করেছে।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের স্বাক্ষরকারী ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জাতিকে বিস্মিত করে জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। সবার সম্মতিতে ৯ মাস ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা করা হয়। বিএনপির প্রতিনিধি পুরো সময়ই সেখানে ছিলেন। কীভাবে জুলাই সনদে একমত বিষয়গুলোকে আইনি ভিত্তি দেওয়া যাবে। উনারা সব বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং একমত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ৮৪টি ঐকমত্যের বিষয়, তার মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়। এগুলো আইনি ভিত্তি দিতে গেলে একটা প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির আদেশ তারপর এটা গণভোটে যাবে, সেখানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে সরকারের গেজেট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং সেখানে অনুমোদন হবে। পরে সেটি সংশোধিত হিসেবে সংবিধানের তফসিল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু হতবাক ও বিস্মিত জাতি জুলাই সনদের স্বাক্ষরকারী একটি দল রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনে মৌলিক বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। গণভোটে ৫ কোটি মানুষ ভোট দিয়ে তাদের নোট অব ডিসেন্ট খারিজ করে দিয়েছে। সংবিধানের আর্টিকেল ৭-এ বলা হয়েছে, জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। গণভোটে ভোট দিয়েছে প্রায় ৫ কোটি মানুষ।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, রাজপথের আন্দোলনকে তারা দমন করবেন। সরকার গঠন না করতেই তারা আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী ভাষায় কথা বলা শুরু করেছেন। একটা দায়িত্বশীল বিরোধী দলকে কথা বলতে দিচ্ছে না। মুলতবি প্রস্তাব আনা হলে ওয়াকআউট করে দিচ্ছেন। বিরোধী দলের আনীত মুলতবি প্রস্তাবের মোকাবিলায় আপনারা আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব এনে তা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এসব অগণতান্ত্রিক কারণে আমরা জনগণের কাছে যেতে বাধ্য হয়েছি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত, আমাদের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলতেই থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত