আলোচনায় আরিফ খানের নাম

কে হচ্ছেন ঢাকার নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার?

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বর্তমান হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এবার কোনো পেশাদার কূটনীতিক নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বাংলাদেশে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাতে পারে দিল্লি। এই দৌড়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম বিহারের সদ্য সাবেক রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খান।

জানা গেছে, বর্তমান হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে পাঠানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্রাসেলস মিশন এখন দিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রণয় ভার্মা সেখানে নিযুক্ত হলে ঢাকার শূন্য পদে কাকে আনা হবে, তা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ ও ইন্ডিয়ান মান্দারিনস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় পরবর্তী হাই কমিশনার হিসেবে আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম জোরালোভাবে ভাসছে। ১৯৫১ সালে উত্তরপ্রদেশে জন্ম নেওয়া আরিফ খান ভারতের রাজনীতিতে এক সুপরিচিত নাম। তিনি লোকসভার তিনবারের সদস্য ছিলেন এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ভারতের কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কেরালা এবং সম্প্রতি বিহারের রাজ্যপাল হিসেবে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে একজন ঝানু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বেশি কার্যকর হতে পারেন। ভারতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে পেশাদার কূটনীতিকের বদলে বড় মাপের রাজনীতিক বা আমলা পাঠানোর নজির অনেক রয়েছে। অতীতে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় বা কুলদীপ নায়ারের মতো ব্যক্তিত্বরা বিদেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় একজন সংস্কারপন্থী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আরিফ মোহাম্মদ খান দিল্লির প্রথম পছন্দ হতে পারেন।

আরিফ মোহাম্মদ খান ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিদগ্ধ একজন মানুষ। তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ও লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বিখ্যাত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি উর্দুতে অনুবাদ করে আলোচনায় এসেছিলেন। বিশেষ করে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন সংস্কারের পক্ষে তার বলিষ্ঠ অবস্থান এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে তার অগাধ জ্ঞান তাকে অনন্য করে তুলেছে। তবে আরিফ খানের পাশাপাশি একজন বাংলাভাষী জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকের নামও আলোচনায় রয়েছে, যিনি বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, গত বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে চড়াই-উতরাই দেখা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক কূটনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখাই হবে নতুন হাই কমিশনারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিহারের রাজ্যপাল পদ থেকে সম্প্রতি আরিফ মোহাম্মদ খানকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকেই তার ঢাকা আসার সম্ভাবনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত পেশাদার কূটনীতিক নাকি অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিকের কাঁধেই ঢাকা মিশনের দায়িত্ব তুলে দেয় দিল্লি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত