শেরপুরের নকলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়েছে। গত ২৯ মার্চ সকালে উপজেলার জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। ২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে কর্মসূচিতে শিশুদের মাঝে শুধু দুধ বিতরণ করলেও ২৯ মার্চ থেকে সিডিউল অনুযায়ী প্রতিদিন উল্লেখিত আইটেম না দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুলের মতে, উপজেলায় ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর তালিকা পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালে সংশোধন করে ১৭ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর তালিকা পাঠানো হয়।
খাবারের মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কিছু শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে, অসুস্থ থাকে তাই স্কুল অনুযায়ী ১০% হারে খাবার কম দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পঁচা কলা এবং পঁচা ডিমও পাচ্ছে অনেকেই। সরকারি তালিকা অনুযায়ী- ১২০ গ্রামের বনরুটির একক মূল্য ২৩ টাকা, ৬০ গ্রামের সিদ্ধ ডিমের মূল্য ১৩ টাকা এবং ১০০ গ্রামের কলার মূল্য ধরা হয়েছে ৯ টাকা। বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে যে মানের খাবার দেওয়ার কথা ছিল বাস্তবে পাচ্ছে নিম্নমানের খাবার। তালিকায় বিস্কিটের নাম উল্লেখ থাকলেও এখনো শুরু হয়নি বিস্কুট বিতরণ।
কয়েকটি স্কুলের কিছু শিশু এবং প্রধান শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, খাবারের মান খুবই খারাপ এবং কিছু স্কুলে শতভাগ, কিছু স্কুলে ১৫-৩৫ % শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে ফিডিং কর্মসূচি থেকে।
নকলা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা যখন খাবার বিতরণ করি এবং শেষ হয়ে যায় তখন কিছু বাদ পরা শিশু শিক্ষার্থীরা আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, তখন আমাদের সকল শিক্ষকরা মর্মাহত হই। আমাদের কিছু শিক্ষার্থী প্রতিদিন পঁচা ডিম এবং পঁচা কলা পায়।
গোয়ালের কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার স্কুলে ২৫ সালের তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থী রয়েছে ১১৫ জন। এর মধ্যে ফিডিং কর্মসূচির খাবার পায় ৭৩ জন। তারপরও কলার মান ভালো না।
কায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক তাসমিনা খাতুনের মতে, স্কুলে শিক্ষার্থী ৮৪ জন। তার মধ্যে খাবার পাচ্ছে সবাই।
জাঙ্গিরারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উমর ফারুক বলেন, আমার ২৫০ জন শিশু শিক্ষার্থী। তার মধ্যে ফিডিং কর্মসূচিতে খাবার পাচ্ছে ২১৫ জন। যারা খাবার বঞ্চিত হয় তারা অনেক কষ্ট পায়।
ফিডিং কর্মসূচির উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে বুধবার দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ে সাক্ষাতে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষকদের নিয়ে গ্রুপ তৈরি করেছি। যেগুলো ঘাটতি আছে সেগুলো সমন্বয় করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে (নকলা-নালিতাবাড়ী) শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী (এমপি) বলেন, কোনও কোনও স্কুলে সমস্যা হচ্ছে। তাদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে জানান আমি ব্যবস্থা নেব।
