বৃহস্পতিবার এবিএম মূসার মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলমযোদ্ধা এবিএম মূসার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পালিত হবে।

তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও আজীবন সদস্য এবিএম মূসা ১৯৩১ সালে ফেনী জেলার ধর্মপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

দীর্ঘ ৬৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৫০ সালে দৈনিক ইনসাফ পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়। একই বছরে তিনি ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান অবজারভারে যোগ দেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সেখানে তিনি রিপোর্টার, স্পোর্টস রিপোর্টার ও বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান অবজারভার বন্ধ করে দিলে তিনি অন্য পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে পুনরায় অবজারভারে ফিরে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বিবিসি ও সানডে টাইমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদদাতা হিসেবে রণাঙ্গন থেকে সংবাদ প্রেরণ করেন।

স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাব্যবস্থাপক, মর্নিং নিউজের সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে ব্যাংককে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (ESCAP)-এ আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।

দেশে ফিরে তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে তিনি দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এবিএম মূসা জাতীয় প্রেস ক্লাবের চারবার সভাপতি এবং তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি একুশে পদকসহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।

জীবনের শেষদিকে তিনি একজন বিশ্লেষক ও টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মুজিব ভাই’ এবং ‘আমার বলো যে যায়’। এছাড়া অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সম্পাদনায় তাঁর ওপর স্মারকগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার ইকবাল রোডের বায়তুস সালাম মসজিদে বাদ আসর দোয়া মাহফিল এবং ফেনীর কুতুবপুরে পৃথক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত