সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরেজমিন অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজের ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলেছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের উপজেলা প্রকৌশলী। পাশাপাশি দায়ী সাব-কন্ট্রাক্টরের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীর এই দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বায়তুছ সালাত জামে মসজিদ সংলগ্ন আর্সি নদীতে একটি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজের ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলা হয়।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মেটংঘর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়কের ৫ কিলোমিটার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বায়তুছ সালাত জামে মসজিদ সংলগ্ন আর্সি নদীতে একটি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ চলছিল। কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকৌশলগত মানদ- মানা হচ্ছে না। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণের নজরে এলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। সরেজমিন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, ‘জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত
থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ অংশ অপসারণ করা হয়েছে এবং দায়ী সাব-কন্ট্রাক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের বাকি কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয়রা উপজেলা প্রকৌশলীর এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান। নিয়মিত মনিটরিং হলে উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে দাবি তাদের।
