চ্যাম্পিয়নস লিগে এর আগে দুবার দেখা হয়েছিল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের, এবারের মতো দুবারই কোয়ার্টার ফাইনালেই। দুই দেখাতেই বার্সার পথচলা শেষ আটে থামিয়ে দিয়েছিল স্বদেশি প্রতিপক্ষ আতলেতিকো। এবারও সম্ভবত তেমন কিছুই হতে যাচ্ছে। গতকাল ঘরের মাঠে যে আতলেতিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে অর্ধেকের বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলা বার্সেলোনা। আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদে এই ব্যবধান ঘোচাতে না পারলে বিদায় নেবে হান্সি ফ্লিকের দল।
দিনের আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলকে পাত্তাই দেয়নি পিএসজি। ঘরের মাঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাও জিতেছে ২-০ গোলে। গত মৌসুমেই শেষ ষোলোতে দুই দলের দেখায় ঘরের মাঠে জিতেছিল প্যারিসের দলটি। এরপর লিভারপুলে হারলেও টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল প্যারিসিয়ানরা।
ন্যু ক্যাম্পে ৪৪ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায় বার্সা। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন আতলেতিকোর জুলিয়ানো সিমিওনে। পাউ কুবারসি গোল বাঁচাতে ফাউল করে বসেন। রেফারি প্রথম হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। পরে ভিএআরের পরামর্শে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে লাল কার্ড দেখান।
এরপর ফ্রি কিকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। ৭০ মিনিটে আলেকজান্ডার সরলথের গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় আতলেতিকোর।
ইতিহাস বলছে, ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে এসে জিতল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ফিরতি লেগে মেট্রোপলিটানোতে লড়াই করতে হবে ইয়ামালদের। তাতে বার্সেলোনা পক্ষে জয় ছাড়াও আতলেতিকোর দুর্গে ঢুকে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যা হয়ে গেছে, তা মেনে নিয়ে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে চান ফ্লিক, ‘আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। আর আগামী মঙ্গলবার আতলেতিকোর মাঠে ম্যাচটার দিকে মন দিতে হবে। আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। আমাদের লড়াই করতে হবে।’
লামিন ইয়ামালও বলছেন একই কথা। আশাবাদী থেকে বার্সা সমর্থকদের উদ্দেশে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার মেট্রোপোলিটানোতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে স্পেন ফরোয়ার্ড একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘খেলা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বার্সেলোনা ফ্যানরা। আমরা দ্বিতীয় লেগে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেমন সবসময়, একজোট থেকে।’
ভিএআর নিয়ে মহাক্ষুব্ধ ফ্লিক : ম্যাচের ৫৪ মিনিটের খেলা চলছিল তখন। আলভারেজের দুর্দান্ত গোলে বার্সা পিছিয়ে ১-০ ব্যবধানে। ৪৪ মিনিটে পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখায়, একজন কম নিয়ে বার্সা তখন চেষ্টা করছিল ম্যাচে ফেরার। ঠিক এমন সময় গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর বাড়ানো একটি বল নিজে কিক নেওয়ার জন্য হাত দিয়ে থামান আতলেতিকোর ডিফেন্ডার মার্ক পুবিল। ফ্লিকের মতে, এটি স্পষ্ট হ্যান্ডবল। এর জন্য পেনাল্টি ও লাল কার্ড দুটিই প্রাপ্য ছিল।
পাশাপাশি প্রথমার্ধে ভিএআর হস্তক্ষেপে রেফারি ইস্তভান কোভাচকে কুবারসির হলুদ কার্ড দেখার ঘটনাটি পুনরায় যাচাই করতে হয়। বার্সার এই ডিফেন্ডার গোল করতে এগিয়ে যাওয়া আতলেতিকোর জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করায় প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। পরে ভিএআর রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলে কুবারসিকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বার্সেলোনাকে।
বার্সা ভিএআরের সহায়তা না পাওয়াতেই মূলত খেপেছেন ফ্লিক। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন, ‘আজ (গতকাল রাতে) ভিএআর যেন আতলেতিকোর পক্ষেই খুব মনোযোগী ছিল। ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন একজন জার্মান, তাই জার্মানিকে ধন্যবাদ।’ জার্মানি জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ পুবিলের হাত দিয়ে বল থামানো নিয়েও বলেন, ‘আমার কাছে এটা একেবারেই স্পষ্ট লাল কার্ড।’
২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্ডার টাইরোন মিংস ক্লাব ব্রুগার বিপক্ষে একই ধরনের অপরাধে শাস্তি পেয়েছিলেন। ফ্লিকের মতে, এ ঘটনায় ভিএআরের উচিত ছিল রেফারি ইস্তভান কোভাচকে ডেকে এনে পুনরায় দেখতে বলা।