সাফ বাংলাদেশে, তবে...

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০১ এএম

আসছে মে মাসে ভারতের গোয়ায় বসছে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনে সেখানে অংশ নেবে বাংলাদেশ। সেপ্টেম্বরে ছেলেদেরও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সুযোগ হতে পারে। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন সেই সময় ঢাকায় ছেলেদের সাফ আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। তবে নানা কারণেই এ আসর আয়োজন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। গত নভেম্বরে সাফের সঙ্গে পার্টনারশিপ চুক্তি বাতিল করেছে কমার্শিয়াল স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান স্পোর্টস-৫। সেপ্টেম্বরে ফ্ল্যাগশিপ টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য আর্থিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় সাফ। তাই তারা চাইছে স্পন্সরশিপ থেকে শুরু করে ব্যয়ের বড় অংশ আয়োজক দেশের ওপর চাপাতে। আবার সাফ চায় টিভিস্বত্ব থেকে শুরু করে টিকিট বিক্রির স্বত্বও নিজেদের কাছে রাখতে। এ রকম শর্তে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন রাজি হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন অবশ্য খুব করে চাইছে মর্যাদার টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতে। প্রাথমিকভাবে তিন ভেন্যুতে খেলা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে তারা। জাতীয় স্টেডিয়ামের ঘাস উপড়ে ফেলে বসানো হচ্ছে নতুন ঘাস। সেপ্টেম্বরের আগেই মাঠ প্রস্তুত করে ফেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে সাফের সঙ্গে চূড়ান্ত হয়নি অনেক কিছুই। কিছু দিন আগে দেশ রূপান্তরকে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছিলেন, ‘আমরা যদি আয়োজনের সুযোগ পাই, তাহলে উঁচুমানের একটা টুর্নামেন্ট করব। বলতে পারেন ওমেন্স এশিয়ান কাপ মানের কিছু একটা করতে চাই। তবে সাফ যা বলছে, তাতে এই আয়োজন আদতে করতে পারব কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আয়োজন করব আমরা, সাফ চায় সব স্বত্ব থাকবে তাদের হাতে! এটা কী করে হয়? ’ সভাপতির সুরে সুর মিলিয়ে বাফুফের সাধারণ সম্পদাক ইমরান হোসেন বলেন, ‘সাফ আয়োজনে আমাদের অবশ্যই আগ্রহ আছে। তবে এই আসর আয়োজনে আমাদের কাজ কী হবে বা আয়োজন করে আমরা কী পাব; সেগুলো এখনো সাফ থেকে জানানো হয়নি। বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই আছে। আমরা তাদের অবস্থান জানার অপেক্ষায় আছি।’

এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার কথা হয় সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টালের সঙ্গে। কমার্শিয়াল পার্টনার সরে যাওয়ায় তারা চাইছে সবার আগে আর্থিক বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা পেতে। সেটা পেলেই তারা সবুজ সংকেত দেবে বাংলাদেশকে। নিজ কক্ষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুরুষোত্তম কাট্টাল বলেন, ‘সাফ কার্যনির্বাহী কমিটির একটি বোঝাপড়া আছে যে, এটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। তবে যতক্ষণ না আমি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি, ততক্ষণ এটি ঘোষণা করা যাচ্ছে না। এটা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করব না। মিডিয়াতেও বলব না যে আমরা এটি বাংলাদেশে করছি।’

সাফের হঠাৎ এতটা সতর্ক হওয়ার কারণ গত নভেম্বরে স্পোর্টস-৫-এর কাছ থেকে পাওয়া একটি চিঠি। সাফ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে আমরা একটি বাণিজ্যিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলাম স্পোর্টস ফাইভের সঙ্গে যা বেশ লাভজনক ছিল। তবে নভেম্বরে তারা আমাদের একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে তারা সাফের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে চেয়েছে। কারণটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। তাই এ মুহূর্তে আমাদের কোনো পার্টনার নেই। এটি একটি বিশাল ধাক্কা। কারণ যে অর্থ আসার কথা ছিল তা আমাদের প্রতিযোগিতায় ব্যয় হতো। এখন আমাদের নিজ দায়িত্বে এটি আয়োজন করতে হবে। আমরা বাফুফে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি। আশা করি, আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমরা এটি চূড়ান্ত করতে পারব।’

আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি অনিশ্চিত থাকলেও সাফ সাধারণ সম্পাদক চাইছেন ছেলেদের সাফে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করতে। তিনি মনে করেন সেটি সম্ভবও, ‘এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) চায় সব আঞ্চলিক অ্যাসোসিয়েশন তাদের মূল প্রতিযোগিতায় অন্তত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচে ভিএআর ব্যবহার করুক। বর্তমানে ফিফা অনুমোদিত বিভিন্ন ধরনের ভিএআর সিস্টেম আছে। তাদের একজন বিশেষজ্ঞ ঢাকার স্টেডিয়ামে আসবেন। তিনি সব কিছু সেটআপ করবেন। রেফারিদের একটি দল বাংলাদেশের বাইরে হতে পারে দুবাই, ব্যাংকক বা কুয়ালালামপুরে কোনো এক কক্ষে বসে থাকবে। সিগন্যাল গেলেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। তাই এটি অসম্ভব নয়।’

ভবিষ্যতে সাফের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন পুরুষোত্তম কাট্টাল। তাতে অন্তত ফ্ল্যাগশিপ টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে অনিশ্চিয়তা আর থাকবে না। তিনি একই সঙ্গে আগামী বছরও ছেলেদের সাফের একটি আসর আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত