দ. আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঠাকুরগাঁওয়ের যুবক নিহত

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার তরুণ প্রবাসী সোহান। পরিবারের একমাত্র ভরসা হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা এখন সরকারের কাছে তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কেতলেহং এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের বাসিন্দা দুলাল  হোসেনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি সেখানে একটি মুদি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও  সোহান দোকানে কাজ করছিলেন। মাগরিবের সময় হঠাৎ এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে  দোকানের মালিক মোমবাতি আনতে পেছনের দিকে যান। ঠিক সেই সময় আগে  থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই  সোহানের মৃত্যু হয়। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা না গেলেও এটি ছিনতাই বা পূর্বপরিকল্পিত হামলা হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বজনরা।

নিহতের চাচা দেলোয়ার হোসেন ও মানিক জানান, বহু কষ্টে ধারদেনা করে  সোহানকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল পরিবারের সচ্ছলতার আশায়। কিন্তু হঠাৎ এমন মৃত্যু সংবাদে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহানের বাবা দুলাল হোসেন ও মা সাহিনুর বেগম বলেন, ‘ছেলের ভবিষ্যতের জন্য অনেক কষ্ট করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তাকে আর জীবিত পাব না, কিন্তু তার মরদেহ যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি এটাই আমাদের শেষ চাওয়া।’

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়।  সোহানকে ঘিরেই তাদের সব স্বপ্ন ছিল। এখন সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সরকারের উচিত দ্রুত সহায়তা করা।’

রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, ‘বিদেশ  থেকে কারও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের অনুমতি প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি কোনো ভূমিকা থাকে না। সোহানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তার পরিবারকে দ্রুত সেই দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে এ বিষয়ে আমাদের কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা সহযোগিতা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত