ফকির লালন সাঁই আমাদের আশ্চার্য করে দিয়ে বলেছেন, ‘লালন বলে সব পুরাতন/ নতুন সৃষ্টি হচ্ছে কে রে!’ ঐতিহ্যিক ও ঐতিহাসিক সূত্র ধরে বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার দিকে দৃষ্টি দিলে লালন সাঁইয়ের এই বয়ানের সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপাদানকে স্থুল দৃষ্টিতে সীমিত গণ্ডির মধ্যে দেখতে অভ্যস্ত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক চর্চিত বা পুনর্জাগরিত উপাদানকে সমকালীন মানদণ্ডে বিচারের মধ্যে সীমিত থাকেন। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার ক্ষেত্রে এই দেখার দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে অধিক কাজ করেছে। অনেক মনে করেন, এই ঐতিহ্যের সৃষ্টি বা প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। কিন্তু এর প্রচলনের পেছনে যে প্রাচীন সাংস্কৃতিক চেতনার প্রবাহ গুপ্ত রয়েছে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে তেমন কাউকে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। যে কারণে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে ইতিহাসের প্রাচীন সংযোগ যেমন আমরা নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছি তেমনি এর গুরুত্বকে গৌণ করা হয়েছে। তাই পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার সাম্প্রতিক ইতিহাসের পাশাপাশি তার প্রাচীন সূত্র অন্বেষণ করা সংগত মনে করি।
২০১৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের ‘পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা’র সাম্প্রতিক ইতিহাস অন্বেষণে জানা যায়, ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৯৩ বঙ্গাব্দে) যশোরের চারুপীঠের আয়োজনে প্রথমবারের মতো নাগরিক পরিসরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, চারুপীঠের সেই আয়োজনে মূল উদ্যোক্তা ছিলেন শিল্পী মাহবুব জামাল শামীম, হীরণ¥য় চন্দ্রসহ অনেকে। প্রথমবারের মতো সেই আনন্দ শোভাযাত্রায় শিল্পী এসএম সুলতানের চিত্রকর্মের উদ্ভাস জনসমক্ষে নিয়ে আসা হয়েছিল। এ ছাড়া কাগজের ওপর আলপনা এঁকে শুভ নববর্ষ ১৩৯৩ লিখে যশোরের রাস্তায় প্রদক্ষিণ করা হয়েছিল। বাজানো হয়েছিল খোল-ঢোলসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যগত বাদ্যযন্ত্র। শুরুর বছরেই যশোরে শোভাযাত্রা আলোড়ন তৈরি করে। পরবর্তীকালে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩৯৬ বঙ্গাব্দে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমানে চারুকলা অনুষদ)-এর শিক্ষার্থীরা যশোরের আদলে পহেলা বৈশাখে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু করে।
ঢাকার নাগরিক পরিসরে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত পহেলা বৈশাখের প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রায় বিশালকায় চারুকর্ম পুতুল, হাতি, কুমির, লক্ষ্মীপেঁচা, ঘোড়াসহ বিচিত্র মুখোশ এবং সাজসজ্জা, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্য প্রভৃতি স্থান করে নেয়। পরবর্তী বছর তথা ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের আনন্দ শোভাযাত্রায়ও নানা ধরনের শিল্পকর্মের প্রতিকৃতি স্থান পায়। ১৯৯১ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিল্পীদের উদ্যোগে হওয়া সেই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট লেখক, শিল্পীরাসহ সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় স্থান পায় বিশালকায় হাতি, বাঘের প্রতিকৃতির কারুকর্ম। কৃত্রিম ঢাক আর অসংখ্য মুখোশখচিত প্ল্যাকার্ড। মিছিলটি নাচে গানে উৎফুল্ল পরিবেশ সৃষ্টি করে। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে আনন্দ শোভাযাত্রার সম্মুখে রঙবেরঙের পোশাক পরিহিত ছাত্রছাত্রীদের কাঁধে ছিল বিরাট আকারের কুমির। বাঁশ এবং বহু বর্ণের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল কুমিরটি। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে ‘১৪০০ সাল উদযাপন কমিটি’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রার আকর্ষণ ছিল বাঘ, হাতি, ময়ূর, ঘোড়া, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ। চারুকলার সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় দিয়ে শিশু একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়।
১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে এই আনন্দ শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামকরণ করা হয়। সেই নামেই ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা শহরের পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ঐতিহ্যে রূপ লাভ করে। বহুমাত্রিক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয়বাহী এই শোভাযাত্রা একদিকে যেমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিনন্দিত হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ একটি গোষ্ঠীর বিরূপ সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। এর ফলে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ‘পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপিত হয়েছে।
আমরা অবাক হয়ে প্রত্যক্ষ করেছি, এদেশের অধিকাংশ মানুষই শোভাযাত্রার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে জানেন না। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১০০০ অব্দের মধ্যে ভারতবর্ষে ‘দিগ্বিজয়যাত্রা’র প্রচলন ছিল। অথর্ববেদের ব্রাত্যখণ্ডে এই দিগ্বিজয়যাত্রার উল্লেখ আছে। এতে নৃত্য-গীত পটীয়সী নারীশিল্পী এবং পুরুষ বাদ্যকার ও কথক অংশগ্রহণ করতেন। গবেষকদের ধারণা, সেই ঐতিহ্য পূর্বভারত তথা বঙ্গভূমি (আজকের বাংলাদেশ) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
সেই দিগ্বিজয়যাত্রার ঐতিহ্য পরবর্তীকালে তথা খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতকে পরিবর্তিত হয়ে ‘বিহারযাত্রা’য় রূপ লাভ করে। মৌর্য রাজপুরুষেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে এই ‘বিহারযাত্রা’র ঐতিহ্য পালন করতেন। এ ধরনের বিহারযাত্রারই ঐতিহ্যে হাতি, রথ, রথের ঘোড়া এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের অনুসরণে নৃত্য-গীত-নাট্য ও বাদ্য পরিবেশনে অভিজ্ঞ নর-নারী শিল্পীরা অংশগ্রহণ করতেন।
এক শতাব্দী পর তথা খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতকে পুরাকালের ‘বিহারযাত্রা’র ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সম্রাট অশোক ‘ধর্মযাত্রা’র প্রচলন করেন। এই ধর্মযাত্রাতেও নৃত্য-গীত-বাদ্যের ঐতিহ্য রক্ষিত হয়।
আসলে নামের ভিন্নতা থাকলেও প্রাচীনকালের প্রায় সব শোভাযাত্রাতে নৃত্য, গীত, বাদ্যের প্রচলন ছিল। এই ভূখণ্ডের এসব শোভাযাত্রার আদর্শ পরবর্তীকালের প্রায় সব ধর্মগোষ্ঠীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ করা যায়। মুসলিম সমাজে মহরমের তাজিয়া মিছিল, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমীর মিছিল, ঢাকার ঈদ শোভাযাত্রা, বৌদ্ধদের পি-দানকেন্দ্রিক মাঙ্গলিক শোভাযাত্রা, মতুয়াদের মাতম প্রভৃতি নানাবিধ শোভাযাত্রার আঙ্গিক বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আদি থেকে বহমান। এমনকি পুরান ঢাকার ঈদ শোভাযাত্রারও প্রাচীনত্ব প্রায় ৪০০ বছরের। বিভিন্ন ইতিহাসকার বর্ণনা করেছেন যে মোঘল ও সুলতানি আমল তথা নায়েব-নাজিমদের আমলে পুরান ঢাকায় ঈদ শোভাযাত্রার শুরু হয়েছিল। সুরিটোলা, হাজারীবাগ, চুড়িহাট্টা ও বংশাল এলাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হতো। এতে ঘোড়ার গাড়ি, ঢাকঢোল, ব্যানার ও ফেস্টুনসহ নানা সাজে মানুষ অংশ নিত। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ঊনবিংশ শতকের প্রথম ভাগে, নায়েব-নাজিম নবাব নুসরাত জঙ্গের আমলে (আনুমানিক ১৮০০-১৮২২ খ্রিস্টাব্দে) চিত্রশিল্পী আলম মুসাউয়ির (Alam Musawwir) ঢাকার ঈদ শোভাযাত্রার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র অঙ্কন করেন। তার ছবিতে নবাব, অভিজাত ও সৈন্যরা সুসজ্জিত হাতি-ঘোড়ায় আরোহণ করে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছেন, সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র, পতাকা ও বিপুল জনসমাগম—যা নবাবী আমলের ঢাকার সামষ্টিক উৎসব সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। এসব চিত্রকর্ম বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
ভারত উপমহাদেশের এই ঈদ শোভাযাত্রার আরও প্রমাণ পাওয়া যায় উনিশ শতকের মাঝামাঝি, বিশেষত ১৮৪০-এর দশকে। এ সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সিভিল সার্ভেন্ট স্যার টমাস মেটকাফে (Sir Thomas Metcalfe) সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের কোর্টে কাজ করার সময় সম্রাটের প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। বাহাদুর শাহ জাফর স্যার টমাস মেটকাফেকে ভারতের শিল্প-সংস্কৃতির ওপর জরিপসহ চিত্রাঙ্কনের দায়িত্ব দেন। দিল্লির চিত্রশিল্পী মাজহার আলী খানসহ ভারতের শিল্পীদের সহযোগিতায় মুসলিম আর্কিটেকচারের ওপর গবেষণা ও চিত্রাঙ্কনের কাজ শুরু করেন। গুরুত্বপূর্ণ ইমারতসমূহের চিত্র অঙ্কনের পাশাপাশি তিনি মোগল আমলে ঈদকে কেন্দ্র করে যেসব অনুষ্ঠান হতো সেসব অনুষ্ঠানেরও চিত্র অঙ্কন করেন। এমনই একটি চিত্রের নাম ‘ঈদের শোভাযাত্রা’। কালি, তুলি এবং রঙের ব্যবহারে কাগজে আঁকা ১২টি ফোল্ডের দীর্ঘ এই স্ক্রল চিত্রে সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর, তার সন্তান এবং আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া স্যার টমাস মেটকাফে ও অন্য সভাসদরা উপস্থিত রয়েছেন। এই ঈদ শোভাযাত্রার চিত্রের সর্বত্র সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সমাবেশ রয়েছে। সম্রাট, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সম্রাটের সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনগণ সুসজ্জিত হাতির পিঠে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ রয়েছেন ঘোড়ার পিঠে। শিল্পীর অঙ্কিত এই চিত্রটি কাল্পনিক নয়। বরং বাস্তবদৃশ্য।
অতএব, ঢাকার আলম মুসাউয়িরের চিত্র (উনিশ শতকের প্রথম ভাগ) এবং দিল্লির মেটকাফ-সম্পর্কিত চিত্র (উনিশ শতকের মাঝামাঝি)—এই দুই ধারার সমন্বয়ে উপমহাদেশে ঈদ শোভাযাত্রার ঐতিহাসিক রূপ, রাজকীয়তা ও জনসম্পৃক্ততার একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। ঢাকা ঈদ শোভাযাত্রার ঐতিহ্যিক অভিযাত্রা কালের অভিঘাতে কখনো খানিক সময়ের জন্য থেমে থাকলেও আবার পুনর্জাগরিত হয়েছে। জানা যায়, ১৯৫২ সালের পর পুরান ঢাকার ঈদ শোভাযাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে পুরান ঢাকার ঈদ শোভাযাত্রা নতুন করে শুরু হয়।
আমাদের ধারণা, খুব স্পষ্ট না হলেও ঐতিহ্যের বিচারে প্রাচীনকাল থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বহমান শোভাযাত্রার বহুমাত্রিক সম্মেলন ঘটেছে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। ইতিহাস জ্ঞানের সমন্বয়ে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার ঐতিহ্যকে উপস্থাপন ও ব্যাখ্যার অনেক ঘাটতি রয়েছে। অনেকক্ষেত্রে মনে হয়, ঢাকার মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আঙ্গিকগত সাদৃশ্য রয়েছে পুরান ঢাকার ঈদ শোভাযাত্রার, নব্বই দশকের আগের পুরান ঢাকার ঈদ শোভাযাত্রার ছবি বা ভিডিও কেউ দেখলে এই অভিমতের সঙ্গে আশা করি একমত হবেন। কিন্তু কোনো দিনই বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপনের সময় এ বিষয়টির তেমন কোনো উল্লেখ করা হয় না। মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল অভিপ্রায় হলো বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় ও বহুমাত্রিক নন্দনবোধের প্রকাশ। বহু মতের বৈচিত্র্যময় মানুষের মহামিলনের একটি প্রতীকী প্রকাশ ঘটে মঙ্গল শোভাযাত্রায়। বর্তমান বাংলাদেশের জন্য এই বহুমাত্রিক প্রকাশের সুযোগটি ধরে রাখার স্বার্থে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্যোগটি উদযাপিত হওয়া দরকার। তা ছাড়া মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর চর্চার প্রসার বৃদ্ধিকরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করণে রাষ্ট্রের বিশেষ ভূমিকা থাকা দরকার। না হলে বর্হিবিশে^ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
লেখক: লোকসংস্কৃতি বিষয়ক গবেষক ও সংগঠক