চট্টগ্রামের আনোয়ারায় লিলি আকতার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার সাবেক নারী ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী মহিউদ্দিনকে (৩৫) আটক করা হয়েছে।
গৃহবধূ লিলি ওই এলাকার সাবেক নারী ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ছেলে মহিউদ্দিনের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিন শাহর মেয়ে। ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, শাশুড়ি ও ননদ মিলে লিলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার করছেন।
নিহতের ছোট ভাই পারভেজ উদ্দিন শাহ অভিযোগ করে বলেন,বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি, স্বামী ও ননদ লিলিকে নির্যাতন করত। বোনের সুখের কথা চিন্তা করে আমরা তাকে সান্ত্বনা দিতাম। তারপরও শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতন থামেনি। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায়ই আমার বোন বাড়িতে চলে আসত। কয়েকদিন আগেও শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতনে আমাদের বাড়িতে চলে আসে।
তিনি আরও বলেন,গতকাল রাতে স্বামী মহিউদ্দিনসহ বাকিরা মিলে আমার বোনকে মারধর করে এবং আমাকে ফোন করে বলে, তোদের বোনকে নিয়ে যাও, না হলে মেরে ফেলব। আমরা মনে করেছিলাম তারা রাগের মাথায় এসব বলছে। আজ লিলির শাশুড়ি ও ননদ বাড়িতে এসে বলে আপনাদের বোন আত্মহত্যা করেছে। তাৎক্ষণিক আমি ছুটে গিয়ে দেখি আমার বোন মৃত অবস্থায় খাটে শুয়ে আছে। তখন তাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ঝুলন্ত অবস্থা থেকে আমার বোনকে কে নামিয়েছে? তারা আমার প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর বিচার চাই।
নিহতের ননদ মর্জিনা সুলতানা বলেন, ভাবির সঙ্গে আমাদের কোনো মনোমালিন্য ছিল না। মাঝেমধ্যে ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হতো। তার জেদ ছিল বেশি, কেউ ভয়ে কিছু বলত না।
নিহতের শাশুড়ি সাবেক ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানা বলেন, রাতে একটু ঝগড়া হয়েছে। তার স্বামী সন্তানদের নিয়ে দ্বিতীয় তলায় ঘুমাতে চলে যায়, রুমে সে একাই ছিল। সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে তাকে ডাকতে গেলে দেখি সে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। তখন আমি আর আমার মেয়ে তার বাবার বাড়িতে খবর দিতে ছুটে যাই।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে জানিয়ে কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
