ইরানের সঙ্গে বৈঠকের আলোচনায় মার্কিন কর্মকর্তারা

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারো আলোচনার টেবিলে ফেরার চেষ্টার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ‘কিছু একটা ঘটতে পারে’। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২১ এপ্রিল তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আরও একটি বৈঠকের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছিলেন। তবে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশের প্রতিনিধি দল। 

এদিকে আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যদি দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়, তবে সেখানেও মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনারও এই সম্ভাব্য বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই কুশনার কূটনৈতিক আলোচনার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইরান যুদ্ধ থেকে উত্তরণে একটি কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব নিজের শীর্ষ এই তিন উপদেষ্টাকেই দিয়েছেন ট্রাম্প এবং তাঁদের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। গত শনিবারের সেই ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর থেকেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে দেশটিকে সমঝোতায় বাধ্য করতে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তারা কী ধরনের প্রস্তাব দিতে ইচ্ছুক ছিল, সে সম্পর্কে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবহিত করছেন। নিষ্পত্তি না হওয়া আলোচনার পর আরাগচি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বাহো ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডাফুলসহ সৌদি আরব, ওমান ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন।এটা বোঝা গেছে, তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন যে, ২১ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনার পরও পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়াটি শেষ হয়ে গেছে বলে ইরান মনে করে না। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে চলছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরানও ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমেরিকার আজ্ঞাবহ হিসেবে বিবেচনা করে অনেকটা গুরুত্বহীন করে রেখেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত