মানবাধিকার রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত আলবার্টো জিওভেনেত্তি। তিনি বলেছেন, মানবাধিকার শুধু আইন, আদালত বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে অন্যের মর্যাদা, সমতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় তরুণেরা বার্তা বাহক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের ড. আব্দুল্লাহ ফারুক অডিটোরিয়ামে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত ৩য় জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে দেশের চার বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগী ও অতিথিরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদ ও আর্থিক পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলবার্টো জিওভেনেত্তি বলেন, ‘তরুণরা মানবাধিকারের শিক্ষার্থী ও বার্তাবাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অধিকার সম্পর্কে জানার পাশাপাশি অন্যের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া, বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও তাদের দায়িত্ব।’ তিনি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তরুণদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি তরুণদের তথ্য সংগ্রহ, সংগঠিত হওয়া এবং মানবাধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরির অসাধারণ সুযোগ দিয়েছে। তবে এর সঙ্গে ভুয়া তথ্য, হয়রানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সত্য, সম্মান ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয় করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য মো. নূর খান লিটন বলেন, ‘মানবাধিকার বিষয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকারকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মতাদর্শের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সর্বজনীন মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের আলোকে দেখতে হবে।’
সাবেক জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মানবাধিকার শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আইন বিভাগের বিষয় নয়; এটি সবার বিষয়। তরুণদের মানবাধিকার সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ তরুণদের মানবাধিকার বিষয়ে জ্ঞান অর্জন ও বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।