বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর পরিশোধন কার্যক্রম। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই উল্লেখ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেল নিয়ে দিন দিন ভোগান্তি বাড়তে থাকলেও মন্ত্রণালয়ের দাবি, অকটেন ও পেট্রোলের মজুদ দিয়ে আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না। ডিজেলের ক্ষেত্রেও এপ্রিল তো বটেই, মে মাসেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটি ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’। জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই; বরং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতাই বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। বাজারে পাম্পে ভিড়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে আমরা যে পরিমাণ তেল দিতাম, এখনো তাই দিচ্ছি। কিন্তু মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় বেশি কিনছে, বলেন তিনি। দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি মাসেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্য সমন্বয় করা হয়। এপ্রিলের দাম ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দাম বাড়বে কি না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
বন্ধ হয়ে গেছে ইআরএল : যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে সীমিত পরিসরে ইআরএলে পরিশোধন কার্যক্রম চলছিল। একপর্যায়ে মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার রাত থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আমদানি হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি দিয়েই ইআরএল চলত; আর প্রতিদিন গড়ে ৪,৫০০ টন পরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হতো। ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের কারণে ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে আসেনি। এতদিন মজুদ থাকা তেল দিয়েই পরিশোধন কাজ চলছিল। ৬ এপ্রিল এসে সেই মজুদ শেষ হয়ে যায়। এরপর পাইপলাইন এবং ট্যাংকে থাকা ‘ডেডস্টক’ বা তলানির তেল ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সচল রেখেছিল। সেই মজুদ শেষ হওয়ায় ১৪ এপ্রিল রাত থেকেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির।
জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর আভাস : জ্বালানির তেলের দাম না বাড়ানোর আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় সংকটকে শক্তিতে রূপান্তর করেছে এবং তা জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নয়। এ ছাড়া অর্থনীতির বহুমাত্রার সংকট কাটাতে কেতাবি পদ্ধতি নয়, বরং সমন্বয়ের বাজেটের আভাস দেন উপদেষ্টা।
