স্পেনে অননুমোদিতভাবে বসবাস ও কাজ করা ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের অনুমোদনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা দেওয়া হবে। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। পরে তা স্থায়ী বসবাসে রূপ নিতে পারে। আবেদন করতে হলে অপরাধমুক্তভাবে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে থাকার প্রমাণ থাকতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে অভিবাসীরা ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে পারবেন, যা ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
মঙ্গলবার নেওয়া এই পদক্ষেপের কারণে অনিয়মিতভাবে বসবাস ও কাজ করা কয়েক লাখ অভিবাসীর আইনি মর্যাদা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকা থেকে যাওয়া বহু অভিবাসী এখন আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আবেদন করতে পারবেন।
অভিবাসন আইন সংশোধনের ডিক্রি জারির মাধ্যমে পেদ্রো সানচেজের সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় বৈঠকের পর রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আইনি মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা করে সরকার। এই সংস্কারের জন্য পার্লামেন্টে ভোটের প্রয়োজন হবে না। কারণ এটি বিদ্যমান আইনে সংশোধনের বিষয়। সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর ১৫ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এই পদক্ষেপ ইউরোপের অধিকাংশ দেশের প্রচলিত অভিবাসন নীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও এই পদক্ষেপের বৈপরীত্য আছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ব্যবস্থাকে ‘ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়’ একটি কাজ বলে অভিহিত করেছেন।
সরকারের অবস্থান পুনরাবৃত্তি করে সানচেজ বলেছেন, চার কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে যারা ইতিমধ্যে বসবাস এবং কাজ করছেন, তাদের ‘সমান শর্তে’ বসবাস ও কর দেওয়া উচিত। সামাজিক মাধ্যমে সানচেজ লিখেছেন, ‘আমরা অধিকার স্বীকার করি, কিন্তু দায়িত্বও দাবি করি।’
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী এই ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এমন মানুষের সংখ্যা আট লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকান দেশগুলো থেকে যাওয়া অনেক অভিবাসী কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেন। বাংলাদেশিরাও একাধিক খাতে কাজ করেন দেশটিতে। অভিবাসনমন্ত্রী এলমা সাইস বলেছেন, যারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করবেন তারা এখন এক বছরের বাসস্থান এবং কাজের অনুমতি পাবেন।
আবেদনের শর্তাবলি : যারা এই কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে চান, তাদের অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। আবেদনের সময় তাদের টানা পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের সদস্য (প্রথম পর্যায়ের আত্মীয়), জীবনসঙ্গী বা নিবন্ধিত সঙ্গী থাকলে তাদের আবেদনও একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে। আবেদনের সময়সীমা আগামী ৩১ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
অপরাধমূলক কর্মকা- যাচাই : রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী ডিক্রির চূড়ান্ত খসড়ায় আবেদনকারীদের অপরাধমূলক রেকর্ডের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হয়েছে। নিজ দেশে কোনো অপরাধে জড়িত না থাকার সনদ জমা দিতে অভিবাসীদের এক মাস সময় দেওয়া হবে। কেউ যদি তা করতে ব্যর্থ হন, তবে স্পেন সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সেসব নথি সংগ্রহ করবে। পার্লামেন্টে অনুরূপ একটি বিল আটকে যাওয়ার পর অভিবাসন আইন সংশোধনের জন্য এই ডিক্রি জারি করা হয়েছে।
