শুরু থেকেই বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একপর্যায়ে বেশ চাপে ছিল নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। কিন্তু বোলারদের সেই পরিশ্রম অনেকটা ম্লান করে দিলেন ফিল্ডাররা। ক্যাচ মিস আর মিসফিল্ডিংয়ের মহড়ায় সহজ সুযোগ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানের সংগ্রহ দাঁড়িয়ে করিয়েছে তারুণ্যনির্ভর নিউজিল্যান্ড।
শুক্রবার মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের সপ্তম ওভারে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। শরীফুল ইসলামের বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়ে ফেরেন নিক কেলি (৭)। ২১ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর শরীফুল তাঁর পরের ওভারেই দ্বিতীয় শিকার পেতে পারতেন। কিন্তু স্লিপে উইল ইয়ংয়ের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন সাইফ হাসান।
জীবন পেয়ে হেনরি নিকোলাসকে সাথে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন ইয়ং। ২০তম ওভারে নাহিদ রানার বলে নিকোলাসকে এলবিডাব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার, তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই কিউই ব্যাটার। পরের ওভারে ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতা আরও প্রকট হয় যখন তানজিদ হাসানের পায়ের নিচ দিয়ে বল সীমানা পেরিয়ে যায়। অবশেষে ২২তম ওভারে ভাঙন ধরে ৭৩ রানের এই জুটিতে। রিশাদ হোসেনকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে তানজিদের হাতে ক্যাচ দেন উইল ইয়ং (৪২ বলে ৩০ রান)।
২৭তম ওভারে কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকে (১৪) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন নিকোলাস। ৬৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ৮৩ বলে ৬৮ রান করে রিশাদের বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর মুহাম্মদ আব্বাসকে (১৪) ফিরিয়ে কিউইদের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন শরীফুল।
তবে ডিন ফক্সক্রফট ব্যক্তিগত ২৮ রানে স্লিপে তানজিদের কল্যাণে নতুন জীবন পান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি তুলে নেন ফিফটি। ৫৮ বলে ৫৯ রান করে শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার বলে বোল্ড হন তিনি। মাঝে জশ ক্লার্কসনকে (৮) বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ।
বাংলাদেশের বোলাররা সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় রান পাহাড়ে না হলেও লড়াকু সংগ্রহ পেয়ে যায় কিউইরা। দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম এবং রিশাদ হোসেন। একটি করে নিয়েছেন মেহেদী মিরাজ ও নাহিদ রানা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, ফক্সক্রফট ৫৯, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪; শরীফুল ২/২৭, রিশাদ ২/৪৪, তাসকিন ২/৫০, মিরাজ ১/৫৪, নাহিদ ১/৬৫)।
