স্বজনের কান্নায় টেকনাফ ও পেকুয়ার বাতাস ভারী

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০২ এএম

জিয়াউর রহমান। বাসা টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের বাজারপাড়া এলাকায়। তার বাবা জাহেদ হোসেন এলাকায় ছোটখাটো ব্যবসা করে কোনোরকম সংসার চালাচ্ছেন। সংসারের কষ্ট লাঘব করতে সপ্তাহখানেক আগে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় পাঠান জিয়াউর রহমানকে। ওই দেশে পাঠাতে দালালকে দিতে হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। কিন্তু মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে গত ১২ এপ্রিল গভীর সাগরে ডুবে যায় বহন করা ট্রলারটি। এখনো জিয়াউরের হদিস নেই। তার মতোই ২৭৩ জন এখনো আছেন নিখোঁজ। প্রতিটি পরিবারে চলছে শোকের মাতম। শুধু টেকনাফ নয় কক্সবাজারের পেকুয়া এলাকাতেও চলছে একই অবস্থা।

জিয়াউরের বাবা জাহেদ হোসেন ও মা মিনারা বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, স্থানীয় দালাল শহীদুল্লাহ প্রলোভন দিয়ে তাদের ছেলেকে পাচার করেছে। সে এর আগেও পাচার করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাধার কারণে নিয়ে যেতে পারেনি। এবার এমনভাবে ফুসলিয়েছে, সংসারের হাল ধরতে টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে হয়েছে। কথা বলার একপর্যায়ে মায়ের আর্তনাদে আকাশ ভারী ওঠে। একাধিকবার মূর্ছা যান তিনি। তার মতোই নিখোঁজদের কয়েকশ স্বজন টেকনাফ থানাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিচ্ছেন। প্রিয়জনের খবর পেতে ভরসা রাখছেন সামাজিক মাধ্যমে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল নিখোঁজ ২৭৩ জনের মধ্যে শতাধিক লোক টেকনাফ উপজেলার। এ ছাড়া উখিয়া, পেকুয়া, মহেশখালীসহ কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়ার লোকজনও রয়েছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কচুবুনিয়া এলাকার আবদুর রহিম, একই এলাকার জামাল, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে বেলাল উদ্দিন, পৌরসভার পুরনো পল্লানপাড়া এলাকার মো. হোসেনের ছেলে জমির হোসেন, চৌধুরীপাড়া এলাকার রফিক আলমের ছেলে ওসমান, শাহপরীরদ্বীপের পশ্চিম-উত্তরপাড়ার জাফর আলমের ছেলে হারুন রশীদ, সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবুনিয়ার আব্দুল গফুরের ছেলে মোহাম্মদ ফিরোজ, সলিমউল্লাহর ছেলে এনায়েতউল্লাহ এবং কচুবুনিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ রাসেলসহ অনেকের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।

নিখোঁজদের স্বজনরা যা বললেন : এ বিষয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের নিখোঁজ এনায়েতুর রহমানের বাবা মোহাম্মদ কালু দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ছেলে এনায়েতুর রহমান বাড়ির পাশের একটি ইটভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তার আয়ে আমাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু গত ২ এপ্রিল থেকে সে নিখোঁজ হয়। বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি, দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সে টেকনাফ হয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। একপর্যায়ে খবর আসে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। সেখান থেকে কোনোভাবে ৯ জন উদ্ধার হয়ে ফিরে এলে তাদের কাছ থেকেই জানতে পারি আমার ছেলে এনায়েতুর রহমানসহ আরও নারী-পুরুষ ট্রলারডুবির ঘটনায় সাগরে তলিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, কেউ হয়তো সাগরে ডুবে গেছে। আবার কেউ ভেসে বিভিন্ন দিকে চলে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কারও সুনির্দিষ্ট কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আরেক ভুক্তভোগীর বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় তার দুই ছেলে মোহাম্মদ জুনায়েদ ও মোহাম্মদ তারেক ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন। তারা এখনো বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, তা তিনি জানেন না। নিখোঁজ মোহাম্মদ তারেকের বাবা আব্দুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে টেকনাফ থানায় গিয়ে আমরা কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে ট্রলারডুবির সময় অনেকেই সাগরে ডুবে যায়। আবার কেউ কেউ সাঁতরে বিভিন্ন দিকে চলে যায়। তবে তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা নেই।

অনেকেই সাগরে তলিয়ে যেতে দেখেছি : আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা নারী  রাহেলা বেগম বলেন, ‘আমার এক খালাত ভাই আমাকে মালয়েশিয়ায় বিয়ে দেওয়ার কথা বলে সাগরপথে নিয়ে যাচ্ছিল। পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি আন্দামান সাগরে ডুবে যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ৯ জন সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিলাম। পরে একটি ট্রলারের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছি। তবে বাকি নারী-পুরুষ কতজন উদ্ধার হয়েছে, তা আমি জানি না। আমি নিজের চোখে দেখেছি, ১০-২০ জন নারীসহ অনেকেই সাগরে ডুবে গেছে।’

স্কুলছাত্রকে বিক্রি-মুক্তিপণ দাবি : নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের দাবি মালয়েশিয়াগামী দালালদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ধরনের অভিযান চালায় না। অভিযোগ রয়েছে, তারই এক আত্মীয় তাকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকার কবির আহমদের ছেলে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা শাকের মাঝি ও জাফরের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলেও ছেলেকে ফেরত দেয়নি। পরে আরও চার লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে থাইল্যান্ডে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহত শিক্ষার্থী সাইফুলের বাবা ইমাম হোসেন গত ৮ এপ্রিল বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় শাকের মাঝি ও জাফরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

যেসব পাচারকারী সক্রিয় : পুলিশ ও নিখোঁজদের স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, মানবপাচারকারীদের অধিকাংশই ইয়াবা কারবার, চোরচালান, ডাকাতি, অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িত। পাচারকারীরা হলেন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকার কবির আহমদের ছেলে শাকের মাঝি, একই ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া এলাকার নজির আহমদ ডাকাতের ছোটভাই আজমউল্লাহ, সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকার ফজল আহমদের ছেলে দালাল ইব্রাহীম, মৌলভী শফিক ও শাহপরীরদ্বীপের মাঝেরপাড়া এলাকার ও বর্তমানে সাবরাং ইউনিয়নের পেন্ডলপাড়ার জহির হোসেন মাঝির ছেলে শহীদুল্লাহ, দক্ষিণপাড়ার শাহাব মিয়া, উত্তরপাড়া এলাকার আবদুল সালামের ছেলে সৈয়দ আমিন, কবির আহমদ প্রকাশ কবির চকিদারের ছেলে শহীদউল্লাহ, বাহরছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার বাদশাহ মিয়ার ছেলে জসিমউদ্দিন, সৈয়দ করিমের ছেলে আব্দুল জলিল, আব্দুল করিম ছেলে রিয়াজ, শামসুল আলমের ছেলে রফিক, নবী হোসনের ছেলে দেলোয়ার, শামসুল আলমের ছেলে রাসেল, ফরিদের ছেলে মুহিবুল্লাহ, আলী হোসেনের ছেলে শফিক, সৈয়দ করিমের ছেলে নাসির আহমদ, ইদ্রিসের ছেলে আহম্মদ করিম, জাহাঙ্গীর, নোয়াখালিয়াপাড়া এলাকার নছরত আলীর ছেলে শীর্ষ মানবপাচারকারী আবদুল আলী, একই এলাকার জবর মুল্লুকের ছেলে মুহিব, সোনালির ছেলে তৈয়ব, মো. আমিনের ছেলে ছৈয়দুর রহমান ওরফে কালা বাঁশি, আব্দুল গফুরের ছেলে জহির আহমদ, কবির আহমদের ছেলে পাকাটা ছৈয়দুল হক, একই ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার ফরিদ ওরফে ফরিদ মাইজ্জার পুত্র মোজাম্মেল, উত্তর কচ্ছপিয়ার করাসিপাড়ার ফজল আহমদ ওরফে ফজল বৈদ্যের ছেলে যুবলীগ নেতা জাফর, নোয়াখালীস্থ জুম্মাপাড়া এলাকার উলা মিয়ার ছেলে মো. ফরিদ, শামসুল আলমের ছেলে মো. রাশেদ, গফুরের ছেলে জহির আহমদ, কচ্ছপিয়া এলাকার সৈয়দ করিমের ছেলে আক্তার ফারুক, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকার ত্রিফল মামলার আসামি আব্দুল আমিন, হাবিবছড়া এলাকার রমজান আলীর ছেলে আহমদ কবির প্রকাশ গারাঁইংগা হুজুর, শাহপরীরদ্বীপ এলাকার বর্তমানে উখিয়ার কোটবাজারের জুম্মাপাড়ার সানাউল্লাহ, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়াপাড়ার ফকিরের ছেলে জাফর, উত্তর লম্বরী এলাকার হাফেজ আহমেদের ছেলে সাইফুল, আমির আহমেদের ছেলে ফয়সালসহ কয়েকশ মালয়েশিয়াগামী মানবপাচারকারী দালাল হিসেবে চিহ্নিত।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ জনের সঙ্গে কথা বলে আমরা অনেক পাচারকারীকে চিহ্নিত করেছি। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের কাছে বেশ কিছু দালালের তালিকা এসেছে। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

পেকুয়ার ১২ পরিবারে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা : আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয় যেসব দালালের হাত ধরে ওই যুবকরা অজানার পথে পাড়ি দিয়েছিলেন সেই দালালচক্রও কোনো তথ্য দিচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন। তবে দালালের মাধ্যমে মুক্তিপণ দিয়ে একজন ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটার নুরুল কাদেরের ছেলে ইসহাক মিয়া, বদিউল আলমের ছেলে আজগর, রাজাখালী ইউনিয়নের মিয়াপাড়াা এলাকার আব্দু রহিমের ছেলে মো. বেলাল, আহমদ ছবির ছেলে মো. এহেসান, আব্দুল মালেকের ছেলে রহিম, হাজিরপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল, নুরুল আমিনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, নতুন ঘোনা গোদারপাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে রহুল কাদের, শহিদুল্লাহর ছেলে মানিক এবং আব্দুল হক কোম্পানির এক আত্মীয়। এ ছাড়া টৈটং ইউনিয়নের পেন্ডারপাড়া ও হিরাবুনিয়াপাড়ার আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে, বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১, ৩ ও ৬ এপ্রিল পৃথকভাবে এই যুবকরা সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের তথ্যমতে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আড়াই শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

পরিবারের দাবি, কাউকে না জানিয়ে একই পাড়ার বাসিন্দা সাবেক করিয়ারদ্বিয়ার খায়রুল আমিন, তার প্রতিবেশী ওমর ফারুক, পেকুয়া সদরের নন্দীর পাড়ার দলিল আহমেদের ছেলে সিএনজিচালক বাদশা মিয়া যুবকদের নিয়ে গিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির ইমাম শরীফের কাছে টেকনাফে দিয়ে আসে। সেখানে তিন দিনের মতো অবস্থান করার পর তাদের ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় দালালচক্রও নিখোঁজদের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।

নিখোঁজ এহেসানের মা মোহসেনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল ট্রলারে ওঠার পর। সে বলেছিল মা, চিন্তা কইরো না, পৌঁছে ফোন দিমু। সেই ফোন আর আসেনি। এখন শুধু অপেক্ষা করছি, ছেলেটা আমার ফিরে আসুক।’

সোহেলের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলেটা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। ভালো একটা জীবনের আশায় গেছে। এখন তার কোনো খোঁজ নেই, আমরা বাঁচব কেমনে?’

নিখোঁজ রহিমের স্ত্রী আজবাহার বেগম বলেন, ‘যাওয়ার সময় বলছিল,  তোমাদের ভালো রাখমু। এখন আমি কাকে ধরে বাঁচব? ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর মুখের দিকে তাকাতে পারি না।’

রাশেদুল ইসলামের নানি ছফুরা খাতুন বলেন, ‘নাতিটা আমার চোখের সামনে বড় হইছে। বিদেশে গিয়ে কিছু করব, এই স্বপ্ন নিয়া ছিল। আল্লাহর কাছে একটাই দোয়া ওরে ফিরায়া দাও।’

বেলালের নিখোঁজের সংবাদে তার মা ছালেহা বেগম ও স্ত্রী সুমি আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনরা জানান, বেলাল সংসারের হাল ধরতেই এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়িয়েছিলেন।

এদিকে একই ট্রলারে থাকা হামিদা বেগমের ছেলে মো. হাসান জীবিত ফিরে আসায় তাদের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তিনি দালালদের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত