বর্তমান তেলের সংকট যেন সাধারণ মানুষের জীবনে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, একদিকে জ্বালানি তেলের অভাব, অন্যদিকে সেই সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে ভোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর তাদের কখনো বলা হচ্ছে ‘তেল পাচারকারী’, কখনো ‘চোর’। এতে করে কষ্টের পাশাপাশি অপমানও সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।
গতকাল শনিবার ঢাকাস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে জেলা ও মহানগরী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালক ও রাইডারদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। আগে যেখানে তারা দিনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা আয় করতে পারতেন, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আয় কমার প্রধান কারণ দুটি তেলের সংকট এবং দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা। এতে কর্মঘণ্টা কমে যাচ্ছে, অথচ জীবিকার চাহিদা তো কমছে না। পরিবার চালানো তাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একজন রাইডারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, রাইডার বলেছেন এটা ছিল আমাদের আত্মনির্ভরশীল পেশা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই পেশা ছেড়ে কোথায় যাব? চারদিকে তো বেকারত্বই বাড়ছে।
তেলের সংকটের কারণে শুধু পরিবহন খাত নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সময় ও সুযোগের অভাবে অনেকেই বাজারে গিয়ে নিজেরাই পরিস্থিতি দেখতে পারছেন না।
হাম আক্রান্তদের দেখতে হাসপাতালে : হাম আক্রান্ত শিশুদের দেখতে রাজধানীর শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে গেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। গতকাল শনিবার হাসপাতালে গিয়ে শিশুদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং হামের যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাম-আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। যাওয়ার পথে তিনি রাজধানীর আসাদ গেটসংলগ্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন এবং জ্বালানি তেলের সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ নেন।
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সদস্য জাহিদুর রহমান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম ও প্রচার সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের হামের অবস্থা কি দেখতে এসেছি। হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি, সংসদে এটা নিয়ে কথা বলব। পুরো স্বাস্থ্য খাত নাজেহাল অবস্থা। হাসপাতালকে বাজার বলা যেতে পারে। হাম চিকিৎসার জন্য আইসিইউর কোনো অস্তিত্ব নেই হাসপাতালে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও জনকল্যাণ নিয়ে কাজ করি। ট্যাক্সের হিসাব অনুযায়ী কাজ করতে হবে সরকারকে। জরুরি কখনো নোটিস দিয়ে আসে না। সংসদে সরকারি দলের কথার ভাবে মনে হয়, দেশে কোনো সমস্যা নেই। সরকারের অনেক কিছু কিতাবে ও খাতায় আছে কিন্তু বাস্তবে চাই।
