সিংগাইরে শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৬ এএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর সদরের আঙ্গারিয়া (বেপারীপাড়া) মহল্লায় নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে সেলিনা আক্তার (৪২) নামে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার দুই সন্তানের জননী। তিনি জেলার শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম সিংগাইর গ্রীন স্ট্রিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক।

পুলিশ নিহতের শিক্ষিকা উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

শিক্ষিকার বড় বোন রামেসা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মোবাইল ফোনে বোন অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখেন, তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সেলিনার মরদেহ একটি ভ্যানগাড়িতে তোলার চেষ্টা করছেন। এ সময় জিজ্ঞাসা করলে জাহাঙ্গীর জানান, সেলিনাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। রামেসার দাবি, তাঁর বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

আরেক বোন আনিসা বেগম অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর আলম পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

তবে শিক্ষিকার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

তিনি বলেন, বাসায় আসার পর ঘটনার আগে টেলিফোনে ওই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সেলিনার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে অভিমান করে সেলিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ বিষয়ে রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহির সঙ্গে  একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জাহাঙ্গীর আলমের মা রাশেদা বেগম বলেন, স্কুল থেকে তাঁর ছেলের বউ বাড়ি ফেরার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সেলিনাকে পাওয়া যায়। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে ছিল শুনেছি, এখন নেই

সিংগাইর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।




×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত