ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে ‘নিঃশর্ত চলাচল’ এখন আর বাস্তবতা নয়, এটি কেবলই কল্পনা। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আইন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে তেহরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যদি হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের কোনও নিয়মই উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানকে বাধা দিতে পারে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাসের একটি মন্তব্যের জবাবে তিনি এই বক্তব্য দেন। কাল্লাস বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির মতো সমুদ্রপথে চলাচল ‘খোলা ও টোলমুক্ত’ থাকতে হবে।
এর জবাবে বাঘাই বলেন, ‘আর হরমুজে ‘নিঃশর্ত ট্রানজিট’? যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের ফলে যখন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এই প্রণালির আশপাশে চলে এসেছে, তখনই সেই ধারণাকেবলই কল্পকাহিনী হয়ে গেছে।’
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক আবাস আসলানি আল জাজিরাকে জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় এখনও উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আলোচনা এগোলেও নতুন কোনও বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত নেই। ইরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ পর্যায়ের দাবি তুলছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
আসলানি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানের মধ্যে গভীর সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যেকোনও কিছুই করা সম্ভব। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দেয়ার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না এবং পরিস্থিতি আবার সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।
পূর্ব উপকূলে উত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ