সিরাজগঞ্জের তাড়াশের গাবরগাড়ি গ্রামে একটি মসজিদের পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নিরশনের দাবিতে মানববন্ধন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর আবারও সংঘর্ষের আশংকায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গাবরগাড়ী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও এনামুল হকের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন লোক গাবরগাড়ী গ্রামের মসজিদের পুকুর থেকে মাছ ধরা শুরু করেন। খবর পেয়ে মসজিদ কমিটির লোকজন তাদের পুকুর থেকে মাছ ধরতে নিষেধ করেন। কিন্তু তারা নিষেধ না শুনে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র, রড ও লাঠি-সোঠা নিয়ে বাধাদানকারীদের ওপর হামলা ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। এ ঘটনার পর মসজিদ কমিটির লোকজন জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই তারা মাছ ধরে নিয়ে চলে যায়।
রবিবার দুপুরে মানববন্ধনের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয় মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসী। সে অনুযায়ী এদিন মানববন্ধন চলাকালে আব্দুর রাজ্জকের লোকজন মানববন্ধন বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে মইদ্রিস হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, জফের হোসেন, লিপি খাতুন, শরিফুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম, শাহাদাৎ হোসেন, সুলতান, এনামুল হক, নাজমুল হোসেন, আব্দুল মজিদ, আব্দুস সালামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
গাবরগাড়ী জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, মসজিদ কমিটি পুকুরে মাছ চাষ করেছে। মাছ বিক্রি করে মসজিদের উন্নয়ন করা হবে। কিন্তু এনামুল ও রাজ্জাকের লোকজন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাছ বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারি করছেন। যা আইনত অন্যায়। এর প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক গং আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা আমাদের অনেকের ঘর-বাড়ি ভেঙে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আহত লোকজনের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।
তাড়াশ থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই থানায় মামলা করতে আসেনি।
